বিদেশ থেকে বছরে কত বার, কী পরিমাণ স্বর্ণ আনা যাবে দেশে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১
বিদেশ থেকে বছরে একবারের বেশি স্বর্ণ আনা যাবে না। একই সঙ্গে স্বর্ণবার আনার ক্ষেত্রে শুল্ককরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী একজন যাত্রী বছরে সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম বা ১০ ভরি স্বর্ণের বার বা পিণ্ড একবার আনতে পারবেন।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সম্প্রতি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, নিষিদ্ধ ক্রিম ও বিদেশি মদ জব্দ করেছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা।
কাস্টমস জানায়, ৩০ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ গ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সময় তিনটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায়। তল্লাশি করে ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে আরো ১১১ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা। তবে শুল্ককরসহ এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
অভিযানে একই ফ্লাইটের যাত্রী মো. তাজুল ইসলামের হ্যান্ডব্যাগ থেকে কৌশলে লুকানো ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। তার পাসপোর্ট যাচাই করে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে তিনি শুল্ককর ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার দেশে এনেছিলেন। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণ শুল্কমুক্তভাবে আনার সুযোগ নেই। ফলে নতুন করে আনা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং শুল্ককরসহ মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
এছাড়া অভিযানে ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
নতুন ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী, স্বর্ণবার আনার ক্ষেত্রে শুল্ককরও বাড়ানো হয়েছে। আগে ১১৭ গ্রাম বা ১০ ভরি স্বর্ণের বার আনতে শুল্ককর দিতে হতো ৪০ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ১৫৫ টাকা। এর বেশি স্বর্ণ কেউ লুকিয়ে আনলে তা আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্বর্ণ আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারণ স্বর্ণের অবৈধ আমদানি দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
logo-1-1740906910.png)