অভিবাসন শুধু পরিসংখ্যান নয়, মানুষের গল্প: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ও উৎসব ‘মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’। রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে আবির ফেরদৌস মুখরের হাউ ডু ইউ ডু। আন্তর্জাতিক বিভাগে সেরা হয়েছে তুরস্কের পরিচালক আদার বারান ডেগারের দ্য কোল্ড।
জাতীয় বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে সৈয়দ সাহিল ও রাকায়েত রাব্বীর মাটি এবং তৃতীয় হয়েছে ইফফাত রওনাক প্রমির দ্য লাস্ট প্যাসেজ। আন্তর্জাতিক বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ইরানের মোসায়েব হানাইয়ের ওভারলোড এবং তৃতীয় হয়েছে ভেনেজুয়েলার রিকার্দো মুনোজ সিনিয়রের অ্যান আইল্যান্ড।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনি বলেন, “অভিবাসন শুধু পরিসংখ্যান নয়, মানুষের গল্প। বিদেশে যাওয়া তরুণদের নিরাপদ ও বৈধ পথ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ তাঁরাই দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন।”
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী বলেন, “বিদেশেযাত্রা সব সময় সুখকর নয়। সফলতার গল্প যেমন আছে, তেমনি রয়েছে প্রতারণা ও কষ্টের গল্প। নির্মাতারা সেই বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।”
বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাশে জিওসেপ্পে দি জিওভান্নি জানান, “ইতালির ভিসা ফি মাত্র ৬১ থেকে ১০০ ডলার। অথচ দালালচক্র ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার নেয়। আমরা এই চক্র ভাঙতে কাজ করছি। তবে লিবিয়া হয়ে নৌপথে অনিয়মিতভাবে ইতালিতে গেলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন বলেন, “শিল্প ও গল্প বলার শক্তি অভিবাসন নিয়ে গভীর সামাজিক আলোচনা তৈরি করতে পারে। এ উৎসব নতুন নির্মাতাদের উৎসাহ দেবে।”
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাহনুমা সালাম খান বলেন, “চলচ্চিত্র মানব পাচারের মতো জটিল সংকটকে শক্তিশালীভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ জনসচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।”
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এক কোটিরও বেশি মানুষ বিদেশে কাজ করছেন। তাদের সংগ্রাম, ত্যাগ ও স্বপ্নের গল্প আছে। আবার অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এসব বাস্তবতা তুলে ধরতেই আমরা এই উৎসব আয়োজন করেছি।”
অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে বিশ্বের ২৪টি দেশ থেকে এক হাজারের বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। তিন মাসব্যাপী আয়োজনে ছয়টি মেন্টরশিপ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ৫৭টি চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়, পরে জাতীয় বিভাগে ১৩টি এবং আন্তর্জাতিক বিভাগে ১০টিসহ মোট ২৩টি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
জুরি বোর্ডে ছিলেন নির্মাতা হিমেল আশরাফ, রাহনুমা সালাম খান এবং সিনেমাটোগ্রাফার সাহিল রনি। চিত্রনাট্য, নির্মাণশৈলী, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্বাচন করা হয়।
আবির ফেরদৌস মুখর বলেন, “চলচ্চিত্র অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। অভিবাসনের স্বপ্নে বিদেশে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হওয়া মানুষ এসব চলচ্চিত্র দেখে নিরাপদ অভিবাসনের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।”
উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোতে উঠে এসেছে উত্তাল সমুদ্রে কাঠের নৌকায় অনাহারে থাকার ভয়াবহতা, অসুস্থ মানুষকে সাগরে ফেলে দেওয়ার নির্মমতা, দালালচক্রের প্রতারণা এবং মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বেঁচে ফেরার সংগ্রাম। ব্র্যাক আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা আরো বিস্তৃত হবে।
logo-1-1740906910.png)