প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটকে অনেকেই ‘দ্বিতীয় লন্ডন’ বলে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক যুগেও এ অঞ্চলে বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। প্রায় ২০ লাখের বেশি প্রবাসীর পাঠানো অর্থের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে বাড়িঘর নির্মাণ, জমি কেনাসহ অনুৎপাদনশীল খাতে। ফলে একদিকে প্রবাসী আয়ের কাঙ্ক্ষিত ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে না।
দেশের শীর্ষ টেলিভিশন চ্যানেল এখন টিভির এক প্রতিবেদন বলছে, সিলেটের গ্রাম থেকে শহরজুড়ে চোখে পড়ে প্রবাসীদের অর্থে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়ি। নকশা ও কারুকার্যে এসব বাড়ি যেন প্রাসাদসম। বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও মৌলভীবাজারে রয়েছে এমন শত শত বাড়ি। কোটি কোটি টাকা খরচে নির্মিত হলেও বছরের অধিকাংশ সময় এগুলো তালাবদ্ধ থাকে।
প্রবাসীরা বলছেন, শিল্প খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও রয়েছে নানা বাধা। সরকারি নিয়মনীতি, অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশের কারণে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী তারেক বলেন, “আমি একটা ব্যবসা করতে চাইলে পারমিশন নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। আর বিনিয়োগের পরে তা ফেরত নেওয়ার আইনগুলোও প্রবাসীদের জন্য সহজ রাখতে হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রবাসী আয়ের বড় অংশ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যাচ্ছে। অথচ এই অর্থ শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ হলে তৈরি হতো নতুন কর্মসংস্থান। শাবিপ্রবি ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী জানান, সিলেট অঞ্চলের ব্যাংকগুলোতে জমা হওয়া অর্থের মাত্র ২২ থেকে ২৫ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে, যেখানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তা প্রায় ৯০ শতাংশ। এর বড় কারণ উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছা।
শাবিপ্রবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ সায়েম বলেন, “প্রবাসীদের বিনিয়োগ মানসিকতা ভিন্ন দিকে চলে গেছে। তাদেরকে উৎপাদনশীল খাতে আনতে পারলে জাতীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়নে বড় সুবিধা হবে।”
সরকার বলছে, প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে নীতিগত পরিবর্তন ও জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নেবে। প্রবাসীরা বিনিয়োগ করলে সব প্রক্রিয়া সরকার সম্পন্ন করবে।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ সিলেটের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর প্রবাসীরা। তাদের পাঠানো অর্থ যদি পরিকল্পিতভাবে শিল্প ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে বদলে যেতে পারে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র।
logo-1-1740906910.png)