Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

‘সমুদ্রপথে বিদেশ না’ স্লোগানে রোড শো

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১

‘সমুদ্রপথে বিদেশ না’ স্লোগানে রোড শো

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া উপকূল দিয়ে প্রতিদিনই সমুদ্রপথে মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে। গভীর সাগরে ট্রলারডুবি ও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়লেও কোনোভাবেই পাচার বন্ধ হচ্ছে না। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং উপকূলের মানুষকে সচেতন করতে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো শত কিলোমিটার দীর্ঘ মানব পাচারবিরোধী রোড শো।

‘সমুদ্রপথে বিদেশ না’ স্লোগান নিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এই রোড শো শুরু হয় ২৫ জুলাই সকাল ১০টায় উখিয়া থেকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তরুণ-যুবক, জেলে-কৃষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। দুপুরে রোড শো পৌঁছায় টেকনাফে এবং বিকেলে মেরিন ড্রাইভ হয়ে রাত ৮টায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলীতে এসে শেষ হয়।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় চার দিনব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে এই রোড শো আয়োজন করা হয়। উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা, কুইজ, প্রশ্নোত্তর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উখিয়ায় উদ্বোধনী পর্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পুলিশ কর্মকর্তা ও ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। টেকনাফ মডেল পাইলট হাই স্কুলে আয়োজিত দ্বিতীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, “মানব পাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের ভেতর সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। ব্র্যাক আয়োজিত এ ধরনের রোড শো জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

কলাতলী সমুদ্রসৈকতে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী ও ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। ‘রূপান্তর’-এর পরিবেশনায় পটের গানের মাধ্যমে মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কুইজ, গেম শো ও অংশগ্রহণমূলক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার।

চার দিন আগে গাজীপুর থেকে শুরু হয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম হয়ে রোড শোর গাড়ি কক্সবাজারে পৌঁছায়। সাধারণ মানুষ, সম্ভাব্য অভিবাসী ও তরুণ সমাজের মধ্যে নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

উপস্থিত দর্শনার্থীরা জানান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে মানব পাচারপ্রবণ এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টির এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয়রা মনে করেন, এ ধরনের প্রচারণা উপকূলীয় অঞ্চলে মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Logo