সাইপ্রাসে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রযুক্তি, পর্যটন ও স্বাস্থ্য খাতে। ইউরোফাউন্ডের ২০২৫ সালের শ্রম ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে ৬৩টি পেশায় শ্রমিকের ঘাটতি এবং ১১টি পেশায় উদ্বৃত্ত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নার্স, মিডওয়াইফ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিক্রয়কর্মী, সিস্টেম বিশ্লেষক, সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, ওয়েব ও মাল্টিমিডিয়া ডেভেলপার, মেডিকেল ইমেজিং টেকনিশিয়ান, ওয়েটার এবং বাস চালক; এসব পেশায় সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে।
পর্যটন, খুচরা ব্যবসা ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট খাতেও মাঝারি মাত্রার ঘাটতি দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা ব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষক, ইলেকট্রিশিয়ান, ইলেকট্রনিক ও মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান, শেফ, দোকানের বিক্রয়কর্মী ও ক্যাশিয়ার।
নির্মাণ ও শিল্প সংশ্লিষ্ট পেশায়ও ঘাটতি রয়েছে। যেমন বিল্ডার, এয়ার কন্ডিশন ও রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ান, ওয়েল্ডার, ভারী যানবাহন চালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং কৃষি, পশুপালন ও মৎস্য খাতের শ্রমিক।
স্বাস্থ্য ও সেবা ব্যবস্থাপক, বিভিন্ন শাখার প্রকৌশলী, সাধারণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, হোটেল রিসেপশন কর্মী, রাঁধুনি, স্বাস্থ্যসেবা সহকারী, কাঠমিস্ত্রি, প্লাম্বার, ইলেকট্রিক ফিটার, বেকার ও রান্নাঘরের সহকারী; এসব পেশায় তুলনামূলক কম মাত্রার ঘাটতি রয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে শ্রম ঘাটতি ব্যাপক হলেও তা মূলত কয়েকটি দেশে বেশি। যেমন- বুলগেরিয়া, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসে চিকিৎসক থেকে ওয়েল্ডার পর্যন্ত নানা পেশায় ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে লাটভিয়া, অস্ট্রিয়া ও ফিনল্যান্ডে প্রশাসনিক ও সৃজনশীল পেশায় উদ্বৃত্ত দেখা গেছে।
৯৮ শতাংশ পেশায় দেখা গেছে, একটি দেশে ঘাটতি থাকলেও অন্য দেশে উদ্বৃত্ত রয়েছে। এতে বোঝা যায়, ইউরোপীয় শ্রমবাজারে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিদেশে চাকরির সুযোগ সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা, যোগ্যতা স্বীকৃতির জটিলতা, ভাষাগত বাধা ও মজুরি বৈষম্য।
জনসংখ্যার বার্ধক্য ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে ঘাটতি আরো বাড়ছে। পাশাপাশি সবুজ জ্বালানি রূপান্তরের ফলে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার ও ছাদ টেকনিশিয়ানের মতো কারিগরি পেশায় চাহিদা বাড়ছে।
প্রতিবেদন বলছে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে সীমান্ত পেরিয়ে শ্রম চলাচল বাড়াতে হবে। যোগ্যতা স্বীকৃতি সহজ করা, প্রশাসনিক বাধা কমানো, চাকরির মান উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি নারীরা, প্রবীণ শ্রমিক ও অভিবাসীদের মতো অব্যবহৃত শ্রমশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
logo-1-1740906910.png)