Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে রোহিঙ্গা পাচার, সংকটে শ্রমবাজার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০

বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে রোহিঙ্গা পাচার, সংকটে শ্রমবাজার

বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরবের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাস করছে। তালিকার বাইরে আরো বহু রোহিঙ্গা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নাগরিক সেজে অবস্থান করছে। দৈনিক কালের কণ্ঠ এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা স্থানীয় দালালচক্রের সহায়তায় ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধি টাকার বিনিময়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব নথি প্রদান করছে। প্রতিটি পাসপোর্টের জন্য দালালরা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, কখনো কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সময় ধরা পড়েন আজিজ খান নামের এক রোহিঙ্গা যুবক। একইভাবে চাঁদপুরে ধরা পড়েছেন দুই রোহিঙ্গা নারী, যারা সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। নেত্রকোনায় ধরা পড়া করিম নামের এক রোহিঙ্গার কাছে সৌদি আরবের ড্রাইভিং লাইসেন্সও পাওয়া গেছে।

পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে একটি বড় সিন্ডিকেট সক্রিয়। সম্প্রতি এই চক্রের ২৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিন্ডিকেটটি কয়েক ধাপে কাজ করে; প্রথমে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আনা হয়, এরপর ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি তৈরি করা হয়, পরে পাসপোর্ট অফিসে অসাধু আনসার সদস্যদের সহায়তায় বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে শত শত জাল নথি ও পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ উদ্ধার হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পরিচয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার দায়ভার বাংলাদেশের ওপর বর্তায়। এতে বৈদেশিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা দিতে আরো কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জামাল উদ্দিন খন্দকার বলেন, শুধু পাসপোর্ট অফিসে কড়াকড়ি যথেষ্ট নয়; স্থানীয় পর্যায়ে জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম চালু করতে হবে। নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অন্তত ২০ বছরের বংশপরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা উচিত। জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি ডেটাবেসের সঙ্গে রোহিঙ্গা ডেটাবেসের স্বয়ংক্রিয় সংযোগ স্থাপন জরুরি। একই সঙ্গে যারা এই রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

Logo