দেশে-বিদেশে দক্ষ তরুণ সম্পদ সৃষ্টিই সরকারের অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২০
দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য দেন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের সব অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সারাদেশে কর্মসংস্থান কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে চাকরির তথ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো সহজলভ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির কার্যক্রম চলছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস, পর্তুগালসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।
জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে জাপান সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলের আওতায় ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জনশক্তি রপ্তানির চাহিদা অনুযায়ী ভাষা প্রশিক্ষণ আরো বিস্তৃত করা হবে। বর্তমানে দেশের ৬০টি টিটিসিতে জাপানি, ইংরেজি, চায়নিজ ও কোরিয়ান ভাষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন ভাষা শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও চলছে।
logo-1-1740906910.png)