Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

যুদ্ধে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮

যুদ্ধে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়, তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে; এই তিন মাসে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ কমেছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে মাত্র ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৬ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যেখানে ২০২৫ সালে একই সময়ে সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ জন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) জানিয়েছে, বর্তমানে যে সংখ্যক কর্মী যাচ্ছেন, তা মূলত যুদ্ধ শুরুর আগে অনুমোদিত চাহিদা ও সম্পন্ন হওয়া ভিসার ওপর নির্ভর করছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে জনশক্তির চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সৌদি আরব ছাড়া বড় কোনো শ্রমবাজার এখন উন্মুক্ত নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়োগ সীমিত, কাতার ও কুয়েতে নামমাত্র কর্মী যাচ্ছেন এবং মালয়েশিয়ার বিশাল বাজার এখনো বন্ধ। ইউরোপের কিছু দেশে নতুন সুযোগ তৈরি হলেও দীর্ঘ ভিসা প্রক্রিয়া ও কনস্যুলার জটিলতার কারণে সাধারণ কর্মীরা তা কাজে লাগাতে পারছেন না।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মনে করছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি মৌসুমি মন্দার প্রভাবও কাজ করছে। সাধারণত রমজান থেকে হজ মৌসুম পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োগ ধীর থাকে। এ বছর হজ শেষ হওয়ায় মৌসুমি স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে। যদি আঞ্চলিক সংঘাত আর না বাড়ে, তবে আসন্ন মাসগুলোতে নতুন করে শ্রমের চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন বিশ্বকাপ ও বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অবকাঠামো, হোটেল, স্টেডিয়াম সংস্কার ও সেবা খাতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে।

যুদ্ধের কারণে নতুন কর্মী পাঠানোর হার কমলেও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্টো ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। প্রবাসীরা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় দ্রুত দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে মোট ৩৩.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮.২৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে সরকারের প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসীদের সঞ্চয় দেশে পাঠানোর প্রবণতা এই প্রবৃদ্ধির কারণ। তবে নতুন কর্মী যাওয়ার হার কমতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখা কঠিন হবে।

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১১ মাসে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। সরকার দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।

Logo