মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে। এ লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষিত ও দক্ষ যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য হলেও ইরান, লেবানন ও সিরিয়ার অস্থিরতার কারণে কর্মী প্রেরণে প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বাজার সুসংহত করার পাশাপাশি বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় চাহিদা যাচাই করে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরো দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে নতুন চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস, পর্তুগালসহ ইউরোপের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানো সহজ করতে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে পৃথক জাপান সেল গঠন করা হয়েছে। এর অধীনে ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ৬০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে সমন্বয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীনে চাহিদাভিত্তিক ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে ৬০টি টিটিসিতে জাপানি, কোরিয়ান, চীনা ও ইংরেজি ভাষার কোর্স পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও চলছে।
বাংলাদেশ সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে চাইছে। থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
logo-1-1740906910.png)