Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রাণকেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৩

বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রাণকেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য

প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। আর এই রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে এখনো মধ্যপ্রাচ্যই প্রাণকেন্দ্র ।  বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মে ২০২৬ এর তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। এরপর রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। রেমিট্যান্স আসা শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে ৫টিই মধ্যপ্রাচ্যে।  

সৌদি আরব, ইউএই, ওমান, কুয়েত ও কাতার; এই পাঁচ দেশ থেকে মে মাসে এসেছে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স, যা মোট প্রবাহের একটি বড় অংশ। কারণ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এখনো উপসাগরীয় অঞ্চল। নির্মাণ, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, পরিবহন, নিরাপত্তা ও গৃহকর্মে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।

যুক্তরাজ্য শীর্ষে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা কম হলেও সেখানে দীর্ঘদিনের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইটি পেশাজীবী এবং দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের আর্থিক সক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে ব্যক্তি প্রতি রেমিট্যান্সের পরিমাণও বেশি।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের অবস্থান দেখায় যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাতে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিত বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাচ্ছেন। 

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো থেকে তুলনামূলক কম সংখ্যক প্রবাসী থাকলেও মাথাপিছু আয় বেশি হওয়ায় রেমিট্যান্সের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তালিকা অন্তত চারটি বাস্তবতা তুলে ধরে। সেগুলো হলো-

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স এখনো শ্রমনির্ভর অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বাজার, উন্নত দেশে কর্মরত তুলনামূলক কমসংখ্যক দক্ষ ও স্থায়ী অভিবাসী ব্যক্তি প্রতি অনেক বেশি অর্থ দেশে পাঠান, রেমিট্যান্সের উৎস ধীরে ধীরে বৈচিত্র্যময় হচ্ছে; ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়ার অবদান বাড়ছে।

তাহলে প্রশ্ন আসে অদক্ষ শ্রমিকের বদলে দক্ষ কর্মী বিদেশ গেলে  কত বাড়তে পারে রেমিট্যান্স?

উপসাগরীয় দেশে একজন অদক্ষ শ্রমিক মাসে সাধারণত ৩০০-৬০০ ডলার আয় করেন। একই দেশে একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান, ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, নার্স বা আইটি কর্মী ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ডলার বা তারও বেশি আয় করতে পারেন।

একজন দক্ষ কর্মীর আয় অনেক ক্ষেত্রে দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি হতে পারে। যদি বাংলাদেশের বিদেশগামী কর্মীদের বড় অংশ দক্ষ হতো, তাহলে একই সংখ্যক কর্মী থেকেও দেশের মোট রেমিট্যান্স কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারত। 

তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, ভাষাজ্ঞান এবং উচ্চ আয়ের শ্রমবাজারে যাওয়া।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিদেশে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং কর্মীর দক্ষতা বাড়ানো। কারণ একজন দক্ষ কর্মী শুধু বেশি আয়ই করেন না, তিনি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বেশি অর্থ পাঠান, দীর্ঘ সময় বিদেশে কাজ করেন এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও বড় ভূমিকা রাখেন।

বাংলাদেশ যদি আগামী দশকে অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানির পরিবর্তে দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানিতে জোর দেয়, তাহলে রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য আরো শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত হতে পারে।

Logo