Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জুনে কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন ৫৮৩ বাংলাদেশি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯

জুনে কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন ৫৮৩ বাংলাদেশি

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরো ১০৯ জন বাংলাদেশি মঙ্গলবার রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। গত চার দিনে দেশে ফিরেছেন মোট ৩৬২ জন, আর শুধু জুন মাসেই কম্বোডিয়া থেকে ফিরেছেন ৫৮৩ জন ভুক্তভোগী।

দেশে ফিরে আসা প্রত্যেককে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয়। বিএমইটির ছাড়পত্রও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছে তিনি মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা পান এবং স্থানীয় দালালদের হাতে বিক্রি হয়ে পড়েন। পরে তাকে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

আরেকজন জানান, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইন প্রতারণা করানো হতো। নির্ধারিত টার্গেট পূরণ না করলে মারধর, বৈদ্যুতিক শক ও টর্চার সেলে নির্যাতন করা হতো। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে স্ক্যাম চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলে তারা মুক্তি পান।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “সাইবার স্ক্যাম এখন মানব পাচারের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত করা হয়।” তিনি জানান, জুন মাসে ৫৮৩ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই চক্রের শিকার হয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন মামলা করেছেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। দেশে ফেরা ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে এখনো হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করা হয়।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ভিসার ধরন যাচাই করা জরুরি। সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত না করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

Logo