চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া; যুদ্ধক্ষেত্রে আহত কয়েক যুবক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:২৯
ভালো বেতনের চাকরির আশ্বাসে দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বাসিন্দা আলী হাসান সোহেল (৪২) এবং তার সঙ্গে যাওয়া আরো কয়েকজন বাংলাদেশি। তাদের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর কোম্পানির কাজে না পাঠিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ড্রোন হামলায় আহত হয়ে তারা এখন চিকিৎসাশিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এবং দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন।
সোহেল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার জুড়ান মোল্লারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার চালাতেন। দালালের প্রলোভনে সাত লাখ টাকা দিয়ে রাশিয়ায় যান। পরিবারের অভিযোগ, ঢাকার মালিবাগের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের কাছ থেকে মোট ২৮ লাখ টাকা নেয়। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ৩০ জনকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়, চুল কেটে সামরিক পোশাক পরানো হয় এবং হাতে অস্ত্র ধরিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
আহত সোহেল ইউক্রেনের ক্রাসনদো শহরের একটি চিকিৎসাশিবির থেকে জানিয়েছেন, তাদের কনস্ট্রাকশন কাজের কথা বলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ড্রোন হামলায় তার হাত ও কান আহত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের বাঁচান, আমরা বাঁচতে চাই। নিরাপদ স্থানে নিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করুন।”
পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানিয়েছেন, তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে। স্ত্রী আকলিমা খাতুন বলেন, “আমার স্বামীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনুন। তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” মা আনজিলা বেগম আহাজারি করে বলেন, “আমি কিছু চাই না, শুধু আমার ছেলেকে চাই।”
গোপালগঞ্জের পলাশ শেখসহ আরো কয়েকজন একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের পরিবারও ক্ষতিপূরণসহ দ্রুত দেশে ফেরানোর দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দালালের প্রতারণায় পরিবারগুলো চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
logo-1-1740906910.png)