দেশে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সরকার ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ‘আর্ন’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। ২৪ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের সবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।
প্রকল্পটির পূর্ণ নাম ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন)। সরকারের লক্ষ্য, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সের প্রায় ৯ লাখ তরুণ-তরুণীকে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা। এদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।
বিশ্বব্যাংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হয়েছে। ৪০১টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্র জমা দেয়, যাচাই শেষে ৭৮টি প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় আসে। পরে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়। কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন শেষে চারটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; সেগুলো হলো ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।
ব্র্যাক ঢাকা ও রংপুর বিভাগে, সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল বিভাগ ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এলাকায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং আহ্ছানিয়া মিশন সিলেট বিভাগসহ কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
প্রকল্পের আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে আট লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, স্ব-কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ, সিড ফান্ড এবং বিভিন্ন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রকল্প পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, এটি শুধু প্রশিক্ষণভিত্তিক নয়; বরং তরুণদের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যুবসমাজকে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগের আওতায় আনা এর অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আরো বলেন, অনেক তরুণ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও অর্থের অভাব, অবস্থানগত সীমাবদ্ধতা বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ না থাকায় কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন না। আর্ন প্রকল্প এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
logo-1-1740906910.png)