বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, বৈধ পথে পাঠানো অর্থের বড় অংশ নানা ফাঁকফোকর ও অনিয়মের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীরা যে অর্থ পাঠাচ্ছেন, তার পুরোটা দেশে পৌঁছাচ্ছে না। অতিরিক্ত ফি, অননুমোদিত চ্যানেল এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো উচিত। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রবাসীকে অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি বা এজেন্টের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে হয়। এতে একদিকে প্রবাসীরা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুর্বল হচ্ছে।
অর্থপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান Foreign Exchange Regulation এবং Money Laundering Prevention Act স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে Migration Law 2013-এ প্রবাসীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ধারা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় প্রতারণা ও অর্থপাচারের ঘটনা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স ফাঁকি ও অর্থপাচার দণ্ডবিধির প্রতারণা এবং অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত ধারার আওতায় পড়ে। ফলে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। কিন্তু দুর্বল নজরদারি ও জবাবদিহিতার অভাবে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসীরা অভিযোগ করছেন, বৈধ পথে টাকা পাঠাতে গেলে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয়। আবার অনেক সময় ব্যাংক বা এজেন্টের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছায় না। এতে তাদের পরিবার ভোগান্তিতে পড়ে। অন্যদিকে হুন্ডি চক্র দ্রুত অর্থ পৌঁছে দিলেও এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বচ্ছতা আনতে হলে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ, অতিরিক্ত ফি নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী চ্যানেল নিশ্চিত করতে হবে।
logo-1-1740906910.png)