জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত হয়নি এমন শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশটিতে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, ভাষা কোর্স বা অন্যান্য ভর্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। ভর্তি নিশ্চিত হলে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী হিসেবে আবাসিক অনুমতির জন্য আবেদন করা যাবে।
ভিসা আবেদনের জন্য দুটি পূরণকৃত জাতীয় ভিসা ফরম এবং জার্মানির নির্ধারিত মান অনুযায়ী তোলা দুটি বায়োমেট্রিক ছবি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে প্রমাণ দিতে হবে যে তিনি জার্মানির কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে থাকতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার, আবেদন গ্রহণের প্রমাণপত্র, সংরক্ষিত আসনের চিঠি, সফলভাবে আবেদন জমা দেওয়ার নিশ্চয়তা, ভর্তি সিদ্ধান্তের জন্য ব্যক্তিগত উপস্থিতির সনদ অথবা অন্তত ১৮ ঘণ্টার ভাষা কোর্সে নিবন্ধনের প্রমাণ।
এছাড়া আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং ভাষাদক্ষতার প্রমাণ (জার্মান বা ইংরেজি) জমা দিতে হবে।
জার্মান কর্তৃপক্ষের মতে, ভিসা আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ। আবেদনকারীরা সর্বশেষ তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বৃত্তির চিঠি বা ব্লকড অ্যাকাউন্টের প্রমাণ জমা দিতে পারেন। এছাড়া জার্মানিতে বসবাসরত কোনো স্পন্সরের দায়বদ্ধতার ঘোষণা কিংবা অভিভাবকের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা, সঙ্গে ছয় মাসের বেতন স্লিপ বা ব্যাংক স্টেটমেন্টও গ্রহণযোগ্য। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ব্লকড অ্যাকাউন্ট এখনো সবচেয়ে সহজ ও গ্রহণযোগ্য উপায় হিসেবে বিবেচিত।
আবেদনের সঙ্গে জীবনবৃত্তান্ত, পূর্ববর্তী শিক্ষাগত সনদ ও ডিগ্রি, বৈধ স্বাস্থ্যবিমা, গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত বৈধ পাসপোর্ট (যাতে অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকে এবং ফেরার তারিখের কমপক্ষে তিন মাস পর পর্যন্ত মেয়াদ থাকে), আবাসনের প্রমাণ এবং ৭৫ ইউরো ভিসা ফি পরিশোধের রসিদ জমা দিতে হবে।
জার্মান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে বিদেশি শিক্ষার্থীরা অবস্থানকালে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের ব্যয় বহন করতে পারবেন। সঠিক কাগজপত্র ও আর্থিক প্রমাণ প্রস্তুত থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানিতে পড়াশোনার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
logo-1-1740906910.png)