বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে প্রি ভেরসাই। ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত এই তালিকায় জায়গা পেয়েছে ভারত, চীন, জার্মানি, কম্বোডিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি বিমানবন্দর। এর মধ্যে ভারতের দুটি নতুন টার্মিনাল বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে- গৌহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদোলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নবি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
প্রি ভেরসাইয়ের বিচারকদের মতে, আধুনিক বিমানবন্দরগুলো এখন আর শুধু যাত্রী পরিবহনের অবকাঠামো নয়, বরং নিজস্ব স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যে অঞ্চল ও যুগের প্রতীক হয়ে উঠছে।
গৌহাটির নতুন টার্মিনালটি নকশা করা হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাঁশ অর্কিড ফুল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। এর ভেতরে রয়েছে বাঁশ-প্রেরিত ‘স্কাই ফরেস্ট’, যেখানে ছাদের নকশায় ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথের প্রতিফলন দেখা যায়। স্থানীয় শিল্প, উপজাতীয় গল্প ও হস্তশিল্পও এখানে প্রদর্শিত হয়েছে।
অন্যদিকে নবি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালটি বিশাল পদ্মফুলের মতো নকশা করা হয়েছে। জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টসের নকশায় তৈরি এই টার্মিনাল ২০২৫ সালে চালু হয়। পদ্মফুলের পাপড়ির মতো ছাদ ভেতরে প্রবেশ করে ফুলের মতো কলামে রূপ নিয়েছে। ভেতরে রয়েছে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল আর্টওয়ার্ক, যা যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করে।
চীনের গুয়াংজু বাইইউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ফুল-প্রেরিত নকশায় তৈরি হয়েছে, যেখানে রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ওপেন-এয়ার অবজারভেশন ডেক। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর নতুন টার্মিনালকে সাজিয়েছে রাস্তা, প্লাজা ও স্কয়ারের মতো পরিচিত স্থাপত্যে।
কম্বোডিয়ার টেচো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশাল ছাদে তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় প্রাসাদ ও মন্দিরের ছাদ থেকে অনুপ্রাণিত। ভেতরে বাঁশ ও রটান ঝুড়ির মতো নকশা করা ছাদ প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করায়।
যুক্তরাষ্ট্রে তালিকায় এসেছে দুটি বিমানবন্দর। পিটসবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাহাড়ের মতো ছাদে তৈরি হয়েছে, যেখানে ৩৮টি স্টিল কলাম বনভূমির মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আর সান ডিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাচে মোড়ানো ২৪৪ মিটার দীর্ঘ দেয়াল দিয়ে আলো প্রবেশ করায়, যা শহরের ওয়াটারফ্রন্ট প্রমেনাডের আবহ মনে করিয়ে দেয়।
প্রি ভেরসাইয়ের মহাসচিব জেরোম গোয়াদাঁ বলেন, আধুনিক বিমানবন্দরগুলো এখন আর শুধু ট্রান্সফার স্পেস নয়, বরং স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠছে। এগুলো ভবিষ্যতের সমাজকে একত্রিত করবে এবং নতুন অভিজ্ঞতার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
logo-1-1740906910.png)