মালয়েশিয়া-চীন সফরে নতুন কূটনৈতিক দিগন্তের পথে প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৯
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন মালয়েশিয়া ও চীন। আগামী ২১ ও ২২ জুন তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবেন, এরপর ২৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং সফরে যাবেন এবং ২৬ জুন ঢাকায় ফিরবেন। এ সফরকে ঘিরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য ভারত ও চীনকে এড়িয়ে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত-চীন বিতর্ক এড়িয়ে ভারসাম্যের বার্তা দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্তই মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের মূল গুরুত্ব থাকবে শ্রমবাজারে। দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট ও নানা জটিলতায় দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। এবার সফরে অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়া, শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা এবং জনশক্তি রপ্তানিতে সব বাধা দূর করার বিষয়টি আলোচনায় আসবে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বড় সুযোগ তৈরি হবে। মালয়েশিয়ায় ১২ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন, তাই শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া প্রবাসীদের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফরে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ খাতে এসব চুক্তি হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, যমুনায় নতুন সেতু এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বাংলাদেশ সফরের সময় বেইজিংয়ে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি চীনা মুদ্রায় বন্ড চালুর প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ, কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ও চীন সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এবার মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি ভারসাম্যের বার্তা বহন করছে।
চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফর দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন গতি আনবে। আর আঞ্চলিক বিশ্লেষক ফরিদ হোসেনের মতে, মালয়েশিয়ার নিরপেক্ষ ভূমিকা ও শ্রমবাজারে গুরুত্বের কারণে প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুরকে প্রথম গন্তব্য করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুধু শ্রমবাজার বা বিনিয়োগ নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রবাসীদের বৈধতা, শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সহযোগিতা; সব মিলিয়ে এই সফর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
logo-1-1740906910.png)