Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জাল ভিসায় ইতালি; বিমানের গ্রাউন্ড অফিসার গ্রেপ্তার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২১

জাল ভিসায় ইতালি; বিমানের গ্রাউন্ড অফিসার গ্রেপ্তার

জাল শেনজেন ভিসায় তিনজনকে ইতালি পাঠানোর চেষ্টার ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড অফিসার মো. আখলাসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ১৬ জুন সকালে জামালপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা জানান, গত ২৬ মে তিন ব্যক্তি নেপালগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। পরে স্টাফ গেট দিয়ে বের হয়ে একটি গাড়িতে বসে তারা ইতালিগামী বোর্ডিং পাস, টিকিট ও জাল শেনজেন ভিসা সংগ্রহ করেন। এরপর পুনরায় ইমিগ্রেশন এলাকায় ফিরে ওয়াশরুমে পাসপোর্টে জাল ভিসা সংযুক্ত করেন।

তিনি বলেন, পরে আইএনএস গেটে দায়িত্বে থাকা গ্রাউন্ড অফিসার আখলাসুর রহমান তাদের ইতালিগামী ফ্লাইটে উঠতে সহায়তা করেন। ইতালির রোম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মোস্তাফিজুর রহমান অনিক ও অক্ষয় চন্দ্র দাস জাল ভিসাসহ ধরা পড়েন এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তবে তৃতীয় ব্যক্তি ইতালিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, যার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি জানান, ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে একটি চক্রের মাধ্যমে তারা ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং আগাম ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। সিআইডি জানায়, যেহেতু তাদের ইমিগ্রেশন নেপালগামী বোর্ডিং পাসে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই শুধু আইএনএস গেট দিয়েই তাদের বের হওয়ার সুযোগ ছিল। ওই গেটে থাকা গ্রাউন্ড অফিসারের সহায়তায় তারা গেট পার হয়ে ইতালিগামী ফ্লাইটে ওঠেন।

এ ঘটনায় ৩০ মে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে আরো কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সিআইডি, যাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশের অভিবাসন আইন ২০১৩ এবং মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযায়ী, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা, জাল ভিসা ব্যবহার বা মানব পাচার গুরুতর অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনায় প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

Logo