বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে। এক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একমাত্র নন-স্টপ আকাশপথ পুনরায় চালু হচ্ছে।
১৫ জুন তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে এই রুট পুনরায় চালু করা সরকারের অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জুনের শেষ সপ্তাহে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছিল। তবে জাপান সিভিল এভিয়েশন ব্যুরো (JCAB) নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় চাওয়ায় ফ্লাইট চালু পিছিয়ে যায়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২৭ জুলাই থেকে ফ্লাইট চালু করা হবে।
প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বিমান এ জন্য বোয়িং ৭৮৭-৮০০ ড্রিমলাইনার ব্যবহার করবে। টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২০ জুন থেকে বিমানের ওয়েবসাইট ও অনুমোদিত এজেন্টদের মাধ্যমে। মন্ত্রী জানান, যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে।
মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, আন্তর্জাতিক রুটগুলো লাভজনক হতে সময় লাগে। যাত্রী আস্থা, বাজার অবস্থান ও চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ে। কার্যকর বিপণন কৌশল ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা-নারিতা রুট লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ছে, জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে ঢাকা-নারিতা রুট চালু হওয়া দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর করবে।
মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ফ্লাইট চালুতে বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে এটি শুধুই জাপানের নিরাপত্তা অডিটের কারণে হয়েছে। তিনি জানান, রুটটি বন্ধ হওয়ার সময় বাণিজ্যিকভাবে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। সঠিক পরিকল্পনা ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি লাভজনক ও টেকসই হবে।
বর্তমানে জাপানে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী বসবাস করছেন। তাদের জন্য এই রুট একটি বড় সুবিধা হবে। ঘোষণার পর থেকেই জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭ বছর পর ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু করেছিল। তবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক সমস্যা ও বিমান সংকটের কারণে রুটটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।
logo-1-1740906910.png)