Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ভিসা প্রতারণা ও কাগজপত্র জালিয়াতি: বিড়ম্বনায় ভুক্তভোগী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৮

ভিসা প্রতারণা ও কাগজপত্র জালিয়াতি: বিড়ম্বনায় ভুক্তভোগী

বাংলাদেশে ভিসা প্রতারণা ও কাগজপত্র জালিয়াতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। বিদেশে চাকরি বা পড়াশোনার সুযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারক চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক সময় ভুক্তভোগীদের জাল ভিসা ও ভুয়া চাকরির কাগজপত্র দেখিয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। বিদেশে পৌঁছানোর পরই ধরা পড়ে প্রতারণার ঘটনা, আর তখনই ভেঙে যায় স্বপ্ন।

চক্রগুলো সাধারণত ভুক্তভোগীকে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তি করে। তারা ভুয়া ভিসা, চাকরির অফার লেটার বা অনুমোদনপত্র দেখায়। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারকে ভয় দেখানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সুনামগঞ্জের এক যুবকের পরিবারকে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। টাকা পাঠানোর পরও তাকে কয়েক মাস বন্দি রাখা হয়। একইভাবে ঢাকার এক তরুণকে ইতালি পাঠানোর নামে জাল সেনজেন ভিসা দেওয়া হয়, কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছেই সে ধরা পড়ে।

বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় একাধিক আইন রয়েছে।

- Emigration Ordinance 1982 অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে কাউকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

- Migration Law 2013 বিদেশগমন সংক্রান্ত অনুমোদন, লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম কঠোরভাবে নির্ধারণ করেছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত।

- বাংলাদেশ দণ্ডবিধিতে জালিয়াতি ও প্রতারণার ধারায় মামলা করা যায়। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে রেকর্ডেড কল, অর্থ লেনদেনের রশিদ, ব্যাংক ট্রানজেকশনের কাগজপত্র বা ভিসার কপি আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন। আইন অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকারও রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা স্থানীয় থানায় মামলা বা জিডি করতে পারেন। সিআইডি বা দুদকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া যায়। আদালতে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করা সম্ভব। প্রমাণ হিসেবে অর্থ লেনদেনের রশিদ, চুক্তিপত্র, ভিসার কপি, কল রেকর্ড জমা দিতে হয়।

ভিসা প্রতারণা ও কাগজপত্র জালিয়াতি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুক্তভোগীদের উচিত দ্রুত মামলা করা এবং প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে উপস্থাপন করা। কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই চক্রকে দমন করা সম্ভব।

Logo