Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৬

প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা ‘ব্রেন ড্রেন’ বা মেধা পাচারকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তর করতে চায়। ১৩ জুন রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, “আমরা চাই প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন, দেশে বিনিয়োগ করুন এবং তাদের জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা দেশের ইকোসিস্টেমে স্থানান্তর করুন।” তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পূর্ববর্তী প্রচারণা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও কার্যকর অভিবাসন নীতি, যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে আনা হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসনের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। আর প্রবাসীদের কল্যাণে যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে, সেটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাই বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অংশ।

সরকার শুধু অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ধারা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু শ্রমবাজারের বহুমুখীকরণ চাই না, বরং কর্মসংস্থানের ধরন ও জনসংখ্যার বৈচিত্র্যও নিশ্চিত করতে চাই।” দেশের অর্ধেকের বেশি নারী হওয়ায় বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বর্তমানে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হলেও তা আরো বাড়াতে চায় সরকার।

অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরো সুশৃঙ্খল করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ বা ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে সরকারি অবকাঠামোর আওতায় ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে আবেদনকারীর আর্থিক নথি ও শিক্ষাগত সনদ কিউআর কোডের মাধ্যমে অনুসরণযোগ্য করা হচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মের বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার সম্প্রতি একটি কর্মসূচি চালু করেছে। এর অধীনে কোনো শিক্ষার্থী যদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি কোর্সের জন্য বিদেশে যেতে চায়, তবে সে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে।

ড. মাহদী আমিন জানান, বিশ্বের কোন দেশে কী ধরনের কারিগরি দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা নিরূপণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সেই অনুযায়ী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে তরুণদের দক্ষ করে তোলা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের অর্জিত সনদগুলো যাতে গ্রহণকারী দেশগুলোতে সরাসরি স্বীকৃত হয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। 

Logo