Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কম্বোডিয়ায় সাইবার স্ক্যাম: উদ্ধার আরো ৫৪ জন দেশে ফিরেছেন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১৬:২৬

কম্বোডিয়ায় সাইবার স্ক্যাম: উদ্ধার আরো ৫৪ জন দেশে ফিরেছেন

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরো ৫৪ জন বাংলাদেশি শনিবার দেশে ফিরেছেন। দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে শুক্রবার ফিরেছিলেন আরো ৩৭ জন। ফলে গত দুই দিনে মোট ৯১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। ফেরত আসা সবাইকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা ও বাড়ি পৌঁছানোর জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালচক্র তাদের অর্থের বিনিময়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে হস্তান্তর করে। এক ভুক্তভোগী জানান, তাকে দালাল রবিন শেখ ২ হাজার ৮৫ ডলারে বিক্রি করে দিয়েছে। কাজ করতে অস্বীকার করলে বলা হয়, টাকা দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে চলে যেতে হবে, নইলে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হবে।

আরেকজন জানান, তাকে সুপারশপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়। কয়েক মাস কাজ করলেও বেতন দেওয়া হতো মাত্র ৪০০ ডলার, থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পরে তাকে অন্য কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, এসব কম্পাউন্ডে তাদের জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালাতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

এর আগে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও একইভাবে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়েছিল।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ফলে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “সাইবার স্ক্যাম মানব পাচারের ভয়াবহ একটি ধরন। ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতারণায় বাধ্য করা হয়।”

তিনি আরো জানান, সরকার ও ব্র্যাক একাধিকবার থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিদেশগামীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এখন জরুরি।

Logo