বাহরাইন সরকার সম্প্রতি ৬৯ জন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে, যাদের মধ্যে শিশু ও নবজাতকও রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং লন্ডনভিত্তিক বাহরাইন ইনস্টিটিউট ফর রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (BIRD) জানিয়েছে, এদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম এবং ইরানি বংশোদ্ভূত। সংস্থাগুলোর গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তত ৪৬ জনকে রাষ্ট্রহীন করে দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৩ জন শিশু রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাহরাইন দীর্ঘদিন ধরে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য চালিয়ে আসছে। এবার নাগরিকত্ব বাতিলের মাধ্যমে সেই বৈষম্য আরো চরম আকার নিয়েছে। এক নারী জানান, তার স্বামী ও ৯ মাস বয়সী সন্তান নাগরিকত্ব হারিয়ে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছেন, অথচ তাদের পরিবার চার প্রজন্ম ধরে বাহরাইনে বসবাস করছে।
২৮ এপ্রিল নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে বাধ্য করা হয়। এক ভুক্তভোগী জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তাদের কোনো খাবার বা পানি ছাড়া অপেক্ষা করানো হয়। যারা সই করতে অস্বীকার করেন, তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
বাহরাইন কর্তৃপক্ষ তাদের ইরান বা অন্য দেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। কাউকে কাউকে তুরস্কে পাঠানো হলেও সেখানকার কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরিয়ে দেয়। পরে কিছু পরিবারকে ওমানে পাঠানো হয়। এতে বহু পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে। এক নারী বলেন, “তিন সপ্তাহ আগেও আমরা সবাই একসঙ্গে ছিলাম, এখন জোর করে চার দেশে ভাগ হয়ে গেছি।”
সরকার বলছে, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা ইরানের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছে বা বিদেশি পক্ষের সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তিতে যুক্ত ছিল। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এসব অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেনি। শান্তিপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জন্যও কারো কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
২০১৯ সালে বাহরাইন নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ দেয়। ২০২৪ সালে আবারো সংশোধন করে বিচারিক তদারকি বাদ দেওয়া হয়, ফলে নাগরিকত্ব বাতিলের বিরুদ্ধে কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব নয়।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, কাউকে ইচ্ছামতো নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যায় না। শিশুদের রাষ্ট্রহীন করে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নীরব সমর্থনেই বাহরাইন সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)