Logo
×

Follow Us

এশিয়া

এশিয়ার মেগা মল: কেনাকাটা, বিনোদনের নতুন কেন্দ্র

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১৬:২২

এশিয়ার মেগা মল: কেনাকাটা, বিনোদনের নতুন কেন্দ্র

কুয়ালালামপুরের আইওআই সিটি মলে একদিনে ১২ ঘণ্টা কাটানো এখন অনেকের অভ্যাস। মালয়েশিয়ার গরম থেকে মুক্তি পেতে পরিবার নিয়ে এখানে আসেন হাজারো মানুষ। বিশাল এই কমপ্লেক্সে আছে অলিম্পিক মানের আইস রিঙ্ক, ইনডোর ফার্ম, সিনেমা হল, খেলাধুলার কোর্ট আর ৮০০টিরও বেশি দোকান। প্রতি মাসে প্রায় তিন মিলিয়ন মানুষ এখানে ভিড় করেন।

মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শহরগুলোতে মল এখন শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং সামাজিক কেন্দ্র। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, ডেটিং, পড়াশোনা কিংবা সপ্তাহান্তের বিনোদন; সবকিছুর জন্য মল হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। গবেষকরা বলছেন, এশিয়ার শহরগুলোতে মল এখন ‘তৃতীয় স্থান’, অর্থাৎ কাজ ও বাড়ির বাইরে মানুষের মিলনস্থল।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া মল সংস্কৃতি এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত নির্মাণ, অনলাইন কেনাকাটার উত্থান আর বড় দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক মল ফাঁকা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মল আছে, যার বেশির ভাগই টিকে থাকার লড়াই করছে। বিপরীতে এশিয়ায় মল সংস্কৃতি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শহরগুলোতে পার্ক বা উন্মুক্ত জায়গার অভাব থাকায় মল হয়ে উঠেছে সামাজিক অবকাঠামো। এখানে পাওয়া যায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, নিরাপত্তা, খাবার, বিনোদন আর কেনাকাটার সুযোগ। ব্যাংকক, ম্যানিলা বা কুয়ালালামপুরের মলগুলোতে সপ্তাহান্তে ভিড় যেন একেকটা মেলার মতো।

মল শুধু বিনোদন নয়, বরং আশপাশের আবাসন ও অফিস ভাড়ার মূল্য বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মল হয়ে উঠেছে ‘ভ্যালু মাল্টিপ্লাইং ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, যা পুরো শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে। আইওআই সিটি মলেই কাজ করেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ। আর এর ২.৫৪ মিলিয়ন বর্গফুট জায়গা প্রায় শতভাগ ভাড়া দেওয়া আছে।

ভিয়েতনামে Vincom Retail JSC নতুন মল খুলেছে, যেখানে কোরিয়ান স্টাইলের সাউনা পর্যন্ত রয়েছে। থাইল্যান্ডের সেন্ট্রাল পাত্তানা আগামী পাঁচ বছরে আরো ৩.৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ব্যাংককে এখন প্রায় ২০টি মেগা মল আছে, যা পর্যটকদেরও আকর্ষণ করছে।

মল সংস্কৃতির কারণে ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোতে ক্রেতা কমে গেছে। অনেকেই এখন আধুনিক সুপারমার্কেট, শিশুদের খেলার জায়গা আর রেস্টুরেন্টের কারণে মলকেই বেছে নিচ্ছেন। এক মা বলেন, “মল এখন আমার দৈনন্দিন জীবনের অংশ।”

এশিয়ার মেগা মলগুলো শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং শহরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। পরিবার, বন্ধু ও কমিউনিটির মিলনমেলা এখন মলের ভেতরেই গড়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে মল সংস্কৃতি হারিয়ে গেলেও এশিয়ায় তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।


Logo