ইউরোপে চাকরির প্রলোভন, মানব পাচার চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:০৬
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ৮ জুন রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চক্রটির কথিত মূলহোতা শেখ মো. সাদী (৪১), সহযোগী মো. নাহিন (২৫) এবং জাহাঙ্গীর আলম (২৪)। ৯ জুন মিরপুর-১ এ র্যাব-৪ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র্যাব-৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, পর্তুগাল, ইতালি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে আকর্ষণীয় চাকরি ও স্টুডেন্ট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী মো. রমজান হোসেন খান গত ২৮ মে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ও তার ভগ্নিপতি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচালিত একটি ভিসা প্রসেসিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে মোট ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গ্রেপ্তারকৃতরা ওই দুইজনকে সার্বিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর নামে শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের একটি স্থানীয় মাফিয়া চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ভুক্তভোগীরা দেশে ফিরে আসেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তারা ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য উন্নত দেশে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের টার্গেট করে একই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তারা ধাপে ধাপে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেন এবং ভুক্তভোগীদের অবৈধ পথে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করতেন।
র্যাব জানিয়েছে, এই চক্রের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অর্থ আত্মসাতের মামলা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। র্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের চক্র আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
logo-1-1740906910.png)