প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু হবে। ৮ জুন জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের ৩১ মে পর্যন্ত ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮ দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিদেশে নামমাত্র কোম্পানি খুলে ভুয়া চাহিদাপত্রের মাধ্যমে কর্মী নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ১০ জনের কাজের জায়গায় ১০০ কর্মী পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতারণা ঠেকাতে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর আরো কঠোর নজরদারি ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মিলনের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদেশগামী দরিদ্র কর্মীদের জন্য জামানতবিহীন তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে, যার সুদ ৮ শতাংশ। এই ঋণ সীমা পাঁচ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ায় কাজের কথা বলে ৩০ জন বাংলাদেশিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে জড়িত তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, অনেক বাংলাদেশি তৃতীয় দেশ হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।
গাজীপুর-৫ আসনের এমপি ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ঝুঁকি নিয়ে সংহতি প্রকাশ করা প্রবাসীদের অবদান সরকার স্মরণ করে। ক্ষতিগ্রস্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আরো সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মারদিয়া মমতাজ নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, যৌন হয়রানি ও চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরো কয়েকটি দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)