শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরার বাস্তবতা ক্ষীণ: ইউএনএইচসিআর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের অর্ধেকই আশ্রয় দেশে গড়ে প্রায় ১৬ বছর কাটান। ২০২৫ সালের শেষে সংস্থার নিবন্ধন ব্যবস্থায় ৬৪ লাখ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রেকর্ড করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয় থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর। প্রথম বছরে ৯৬ শতাংশ মানুষ আশ্রয়ে থাকেন, তিন বছরে তা কমে ৮৫ শতাংশে দাঁড়ায়। পাঁচ বছরে ৭৬ শতাংশ এবং দশ বছরে ৬০ শতাংশ মানুষ আশ্রয়ে থাকেন। মধ্যম মানে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১৬ বছর। এমনকি ২০ বছর পরও ৩৯ শতাংশ মানুষ আশ্রয়ে থেকে যান।
শিশুরা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় আশ্রয়ে কাটায়। পাঁচ বছরের কম বয়সে নিবন্ধিত শিশুদের গড়ে ১৮ বছর আশ্রয়ে থাকতে হয়। অন্যদিকে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে সময়কাল কমে প্রায় ১১ বছরে দাঁড়ায়। পরিবার আকারও বড় ভূমিকা রাখে। একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে গড়ে ছয় বছরেই আশ্রয় শেষ হয়, দুই থেকে চার সদস্যের পরিবারে প্রায় ১০ বছর, আর পাঁচ বা ততোধিক সদস্যের পরিবারে সময়কাল প্রায় ১৯ বছর।
নারীরা আশ্রয়ে পুরুষদের তুলনায় বেশি সময় কাটান। নারীদের গড় সময় প্রায় ১৭ বছর, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ১৪ বছরের কিছু বেশি।
জাতীয়তা ও আশ্রয় দেশের ভিত্তিতেও সময়কাল ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, সোমালিরা ইরিত্রিয়ায় গড়ে প্রায় এক দশক আশ্রয়ে থাকেন। অন্যদিকে মোজাম্বিকের নাগরিকরা মালাউইতে বা অ্যাঙ্গোলার নাগরিকরা নামিবিয়াতে তুলনামূলক কম সময় কাটান। এসব পার্থক্য মূলত দেশগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সেবার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আশ্রয় কোনো স্বল্পমেয়াদি আইনি অবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা। শিশুদের পুরো শিক্ষাজীবন আশ্রয় ব্যবস্থার মধ্যে কাটে। তাই শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নথিপত্র, চলাচলের স্বাধীনতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। নারীরা ও শিশুরা শুরু থেকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থায়ী হয়।
logo-1-1740906910.png)