৪৫ হাজার টাকায় অস্ট্রেলিয়া! বিপুল টাকা হাতিয়ে উধাও এজেন্সি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১১:০৭
মাত্র ৪৫ হাজার টাকায় অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর আশ্বাস- এই লোভনীয় প্রস্তাবেই ফাঁদে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার শত শত যুবক। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামের একটি এজেন্সি তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা সংগ্রহ করে উধাও হয়ে গেছে। বনানীর অভিজাত অফিসে রাজকীয় আপ্যায়ন আর মিষ্টি কথায় বিশ্বাস অর্জন করে এজেন্সির সিইও শামীম আহমেদ প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ পাসপোর্ট নিয়েছিলেন।
প্রথমে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করতেন আগ্রহীরা। অফিসে গিয়ে তাদের বলা হতো, “বড় অঙ্কের টাকা লাগবে না, শুধু প্রসেসিং খরচ”। এরপর ধাপে ধাপে করানো হতো মেডিকেল পরীক্ষা, বায়োমেট্রিক ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। সবকিছু শেষ হলে জানানো হতো, ভিসা আসছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ ভিসা পাননি। বরং অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দরজায় তালা ঝুলছে।
ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিনব প্রতারণার কৌশল। চক্রটি অস্ট্রেলিয়া সরকারের ‘ইমি অ্যাকাউন্ট’-এ আবেদনকারীদের নামে ফ্রি ‘ট্রানজিট ভিসা’ (সাবক্লাস ৭৭১) আবেদন করত। এরপর আসল বায়োমেট্রিক রিকুয়েস্ট লেটার ডাউনলোড করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘ট্রানজিট’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘স্কিলস ইন ডিমান্ড’ (সাবক্লাস ৪৮২) বসিয়ে দিত। যেহেতু বারকোড ও রেফারেন্স নম্বর আসল ছিল, তাই ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের স্ক্যানারও সেটিকে বৈধ হিসেবে শনাক্ত করত। এতে ভুক্তভোগীরা নিশ্চিত হয়ে পড়তেন যে তাদের আবেদন সত্যি।
পাবনার ফারুক হোসেন বলেন, “শামীম ভাই বলেছিলেন, ৮০০ জনের ফাইল নিয়েছেন। এত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে কবরে যাবেন না।” তার মতো অনেকেই বিশ্বাস করে পাসপোর্ট জমা দেন। কিশোরগঞ্জের সাকিবুল হাসান জানান, “অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার স্বপ্নে বাবার ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখন সব শেষ।”
ভুক্তভোগীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাদের আটকে থাকা পাসপোর্ট নিয়ে। বনানীর কো-ডেস্ক নামের শেয়ার্ড অফিসে কিছু পাসপোর্ট থানায় জমা দেওয়ার দাবি করা হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। বরং অভিযোগ উঠেছে, অফিসের একাংশ পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার নামে জনপ্রতি ২৫০০-৩০০০ টাকা নিচ্ছে।
‘আলহামদুলিল্লাহ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’-এর মালিক শামীম আহমেদ ও তার সহযোগীরা এখন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত করছে ভুক্তভোগীরা। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার স্বপ্নে যারা পাসপোর্ট ও টাকা জমা দিয়েছিলেন, তাদের এখন একটাই প্রশ্ন- এই প্রতারণার জালে জড়ানো তথ্য ও নথি কি নিরাপদ?
logo-1-1740906910.png)