Logo
×

Follow Us

অন্যান্য

চাকরি ছেড়ে তুলসির বিদায়, চুক্তির আলাপের আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১৬:০৫

চাকরি ছেড়ে তুলসির বিদায়, চুক্তির আলাপের আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি

চুক্তি করা নিয়ে আমেরিকা-ইরানের দরকষাকষি, ট্রাম্পের সাথে নেতানিয়াহুর টেলিফোনে কথাকাটাকাটি, আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে তুলসি গাবার্ডের পদত্যাগ, সব মিলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের হতাশার চিত্র উঠে আসছে। 

সব ছাপিয়ে আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গাবার্ডের পদত্যাগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুরো ইরান যুদ্ধের সময়ে তুলসি ছিলেন একেবারে নিশ্চুপ। কিন্তু এখন জানালেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসার কারণে পদ ছাড়তে হচ্ছে তার।যদিও টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে ভিন্ন কথা। তুলসি গাবার্ডকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ তিনি ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন, সে কারণে তাকে ধীরে ধীরে একঘরে করে ফেলা হচ্ছিল। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর ঠিক আগে ট্রাম্প যখন তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন, তখন সেই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না তুলসি। কেবল তুলসি নয়, ইরান যুদ্ধের জের ধরে মার্কিন প্রশাসনে একের পর এক যে পদত্যাগের মিছিল চলছিল, তাতে যুক্ত হলেন তুলসি। আর এসবের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে ইরান যুদ্ধ, দেশটিকে বস করতে না পারা, হরমুজ খুলতে ব্যর্থতা, আর একটি চুক্তিতে আসতে দেরি; এসবের কারণে মার্কিন প্রশসানের অন্দর মহলে রীতিমতো উথালপাথাল চলছে।   

অন্যদিকে হরমুজ আর ইউরেনিয়াম; এই দুই বিষয়েই দরকষাকষি চলছে ইরান-মার্কিনি আলোচকদের অন্দর মহলে। আমেরিকার যেসব শর্ত, তা এখনো মানতে নারাজ ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামিনি জানিয়েছেন, ইরান থেকে ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই সরাতে রাজি নয় ইরান। আর বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে, শক্ররা বাড়াবাড়ি করলে তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।  

তারপরও তেহরান বলছে, কূটনীতি অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। ২২ মে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানে গেলে গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। আমেরিকা-ইরানের চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর তীব্র কথাকাটাকাটিও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাই ইসরায়েলের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে।   

চুক্তির জন্য আলোচনাতে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টার ভাব লক্ষ্য করা গেলেও, এটিকে টেকসই চুক্তি নয়, বরং নতুন করে একে অপরের সাথে আক্রমণের ষড়যন্ত্র হিসেবেই বেশি মনে হচ্ছে। 

আমিরাতের আবুধাবিতে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা করা হয়েছিল ইরাক থেকে। আর এই ঘটনার পর, বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করে বলছেন, ইরান ইতোমধ্যে গোটা অঞ্চলজুড়ে তার প্রক্সি বাহিনীগুলোকে পুরোদমে সক্রিয় করেছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানির মজুত রেড জোনে পৌঁছে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আরো বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ঝড়ের আগে যেমন সব কিছু নীরব হয়ে আসে, বর্তমান মুহূর্তটিও ঠিক তেমন। কোনো স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি কৌশলগত বিরতি। ইরান-আমেরিকা কেউ পরাজয় মানতে রাজি নয়। দুই দেশই সংঘাতের পরবর্তী পর্যায় নিয়ে ভাবছে। নতুন সেই সংঘাত তা কতখানি বিধ্বংসী বা বিস্তৃত হবে, তা এখনই পুরোপুরি অনুমান করা যাচ্ছে না।

Logo