বাংলাদেশ সরকার ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তির আওতায় ইপিএস কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা কোরিয়ায় কাজের সুযোগ পান। এই কর্মসূচি পরিচালনা করে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং কোরিয়ার হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এইচআরডি কোরিয়া)। কর্মী নির্বাচন থেকে শুরু করে রোস্টারভুক্তি, শ্রম চুক্তি ইস্যু এবং গমন প্রক্রিয়া সবই কোরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। বোয়েসেলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষা, স্কিল টেস্ট ও কালার ব্লাইন্ডনেস টেস্টে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা রোস্টারে অন্তর্ভুক্ত হন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে মৎস্য ও নির্মাণ খাতে কাট মার্ক ছিল ১৫৫ এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ১৪৫। রোস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কে আগে বা পরে পাশ করল বা কার শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি; এসব তথ্য শ্রম চুক্তি ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। বার্ষিক কোটা অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন গুণ প্রার্থী রোস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কোরিয়ার নিয়োগকর্তারা শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করেন। এরপর মন্ত্রণালয় যাচাই করে নির্ধারিত রোস্টার থেকে তিনজন প্রার্থীর তথ্য নিয়োগকর্তাকে দেয়। নিয়োগকর্তা যাচাই করে একজনকে শ্রম চুক্তি প্রদান করেন। এরপর সিসিভিআই ইস্যু হলে বোয়েসেল প্রশিক্ষণ ও বহির্গমন কার্যক্রম সম্পন্ন করে কর্মীকে কোরিয়ায় পাঠায়।
এইচআরডি কোরিয়া ও বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, কোটা পূরণ না হওয়ার বড় কারণ হলো কর্মীদের অল্প সময়ের মধ্যে কর্মস্থল পরিবর্তন। অনেকেই পরিচিতজনের প্ররোচনায় বা বেশি বেতনের লোভে চাকরি বদল করেন। এছাড়া কোরিয়ান ভাষায় দুর্বলতা, মালিকের বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ এবং আচরণগত সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
শ্রম চুক্তি পাওয়া কর্মীদের জন্য বোয়েসেল ১০০ ঘণ্টার বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এতে ভাষা দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা, কর্মপরিবেশ ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। কর্মীদের মনে রাখতে হবে, কর্মস্থলে খারাপ আচরণ করা যাবে না, বিনা কারণে চাকরি পরিবর্তন করা যাবে না এবং কোরিয়ান ভাষায় সাবলীল হতে হবে।
২০২৩ সালে নির্ধারিত রোস্টারভুক্ত প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অনেক বাংলাদেশি কর্মী দায়িত্বহীনতার কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছেন। এতে শুধু পরিবার নয়, দেশের রেমিট্যান্স আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই কর্মীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। কোরিয়ান ভাষা চর্চা, শারীরিক ব্যায়াম, কর্মস্থলে উত্তম সম্পর্ক এবং দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা সম্ভব।
logo-1-1740906910.png)