মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উপসাগরীয় মিত্র কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে।” এই ঘোষণার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “সংলাপ মানে আত্মসমর্পণ নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান মর্যাদা, কর্তৃত্ব এবং জাতীয় অধিকার রক্ষার শর্তে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নয়।
এদিকে ইসরায়েলের লেবানন আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর চুক্তি হয়েছিল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩,০২০ জন নিহত এবং ৯,২৭৩ জন আহত হয়েছেন।
গাজার উদ্দেশ্যে যাওয়া সাহায্যবাহী নৌবহর আবারও ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রায় ৪৭টি নৌযান আটক করা হয়েছে এবং শত শত কর্মীকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বড় বাধা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ স্থগিত রেখে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, তবে বাস্তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের আক্রমণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ইরান আলোচনায় অংশ নিচ্ছে মর্যাদা রক্ষার শর্তে, আর ইসরায়েল লেবানন ও গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ছে।
logo-1-1740906910.png)