Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

এনআইডি সংশোধনে দুর্ভোগে শত শত মানুষ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১২:১৫

এনআইডি সংশোধনে দুর্ভোগে শত শত মানুষ

প্রতিদিনই শত শত মানুষ ভিড় করছেন নির্বাচন ভবনের এনআইডি অনুবিভাগে। জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরিয়ে এনআইডি মহাপরিচালকের হাতে পুরোপুরি ন্যস্ত করার পর থেকেই এমন দুর্ভোগ বেড়েছে। দৈনিক সমকালের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে উপজেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেই বয়স সংশোধন করা যেত। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ইসি প্রবিধান সংশোধন করে সব ক্ষমতা মহাপরিচালকের হাতে দেয়। এরপর থেকেই সেবাপ্রার্থীদের ঢাকায় ছুটে আসতে হচ্ছে।

আগারগাঁওয়ের এনআইডি অনুবিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, মহাপরিচালকের দপ্তর ও হেল্পডেস্কের সামনে নারী-পুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। অনেকেই সন্তান-সন্তুতি নিয়ে এসেছেন। চেয়ারে বসার জায়গা না পেয়ে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে বা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বেশির ভাগ মানুষই পরবর্তী হয়রানির ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তবে কয়েকজন ছদ্মনামে তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আবদুল কুদ্দুস (ছদ্মনাম) জানান, জরুরি পাসপোর্ট করতে গিয়ে এনআইডিতে বয়স সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু আবেদন করার পর থেকে কর্মকর্তাদের কক্ষে কক্ষে ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না। একইভাবে পটুয়াখালীর গফুর মুন্সী (ছদ্মনাম) প্রবাসী ছেলের এনআইডি সংশোধনের জন্য দুই মাস ধরে ঢাকায় ঘুরছেন। ছেলের ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, কিন্তু সংশোধন না হলে তাকে দেশে ফিরতে হবে।

এনআইডি সংশোধনের কাজ এখন পুরোপুরি মহাপরিচালকের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। দেশের ৬৪ জেলা ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে সহকারী পরিচালকের দপ্তরে আবেদন যাচাই-বাছাই হয়। এরপর পরিচালকের অনুমোদন শেষে মহাপরিচালকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সংশোধিত এনআইডি দেওয়া হয়। একাধিক তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো উপজেলা অফিসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বা আবেদনকারীকে ঢাকায় ডেকে শুনানি করা হয়। এতে আরো এক দফা দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।

ইসির কলসেন্টার থেকেও সেবাপ্রার্থীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে অবস্থিত ১০৫ নম্বরে ফোন করলে বেশির ভাগ সময় বন্ধ পাওয়া যায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর থেকে প্রায়ই এই সেবা বন্ধ থাকায় মানুষ আরো বিপাকে পড়ছেন।

এনআইডি অনুবিভাগের সদ্যনিযুক্ত মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, তিনি নতুন এসেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে ঘুষ ও অনিয়ম কমেছে। তবে দুর্ভোগের বিষয়টি অবহিত হয়ে আরো সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

এনআইডি সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য তা হয়ে উঠেছে সীমাহীন দুর্ভোগের কারণ। ঢাকায় আসা-যাওয়া করতে করতে ক্লান্ত শত শত মানুষ এখন দ্রুত সমাধানের অপেক্ষায়।

Logo