বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার চালু করতে যাচ্ছে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কার্ড কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের দ্বিতীয় ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরাম’-এ অংশ নিচ্ছেন।
মন্ত্রী জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে বৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা একাধিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন, দেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষা এবং বেশি রেমিট্যান্স পাঠালে অতিরিক্ত লজিস্টিক সাপোর্ট।
প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিদেশে মারা গেলে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা। মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে একটি প্রবাসীবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে।
প্রবাসীরা দেশে এসে যাতে প্রতারিত না হন, সে জন্য সরকার নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি ঢাকা-নিউ ইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, এটি সময়সাপেক্ষ হলেও সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
সরকার এখনো প্রবাসী কার্ডের আবেদন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে সাধারণত এ ধরনের সরকারি সুবিধার জন্য যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে বৈধ পাসপোর্টের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যাংক রশিদ বা স্টেটমেন্ট, বিএমইটি স্মার্ট কার্ড, এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
প্রবাসী কার্ড চালু হলে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য এটি হবে একটি বড় অর্জন। তারা শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধাই পাবেন না, বরং দেশে ফিরে নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও সরকারি সেবায় অগ্রাধিকারও পাবেন। সরকারের এই উদ্যোগ প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)