Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদেশে কর্মী পাঠানো কমেছে অর্ধেক, অনেকেই ফিরছেন দেশে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৪১

বিদেশে কর্মী পাঠানো কমেছে অর্ধেক, অনেকেই ফিরছেন দেশে

মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মসংস্থান চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। নতুন কর্মী পাঠানোর হার অর্ধেকে নেমে এসেছে, আর অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশে ফিরছেন। ১৩ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) এই তথ্য তুলে ধরে।

রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ৮২ শতাংশই গিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে। মোট প্রবাসী আয়ের ৪৬ শতাংশ এসেছে এই অঞ্চল থেকে। বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী সেখানে অবস্থান করছেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এবারের মার্চ মাসে বিদেশ যাওয়ার কর্মসংস্থান ছাড়পত্র ৫০ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে অন্তত ৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ইরান থেকে ২০০ জনকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় দেশে ফেরানো হয়েছে।

রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, “নিরাপত্তা না থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক বিনিয়োগ তুরস্কে চলে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় অবৈধ অভিবাসন বাড়তে পারে। নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে সরকারকে নাগরিক সমাজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে ইরান থেকে ফিরে আসা কয়েকজন শ্রমিক তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কুমিল্লার মো. আব্দুল্লাহ জানান, “মিসাইলের বিকট শব্দে রাতে ঘুমানো যেত না। বাঁচব কিনা সেই আতঙ্কে কালেমা পড়ে ঘুমাতাম।” ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি, এখন দেশে ফিরে দিশেহারা। আরেকজন শ্রমিক আব্দুল্লাহ আল কায়সার বলেন, “ইসরায়েলি হামলার রাতে মালিক পালিয়ে যায়, আমি একা পড়ে যাই। পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে গিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে ফিরেছি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদ আলম ভূঁইয়া ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জালাল উদ্দিন শিকদার জানান, শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীরা চরম বিপদের মুখে আছেন।

রামরুর প্রতিবেদনে সৌদি আরবের একটি ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরা হয়, যেখানে আগে ৪০০ কর্মী কাজ করতেন, এখন ছাঁটাইয়ের পর মাত্র ৬৫ জন রয়েছেন। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত হলে কর্মসংস্থান আরো কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশির জীবন ও জীবিকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সংকট মোকাবিলায় রামরু কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে— যুদ্ধপ্রবণ দেশগুলোতে ২৪ ঘণ্টা বাংলা ভাষায় হটলাইন চালু করা, জরুরি অবস্থায় দেশে ফেরার নির্দেশিকা তৈরি, আটকে পড়া প্রবাসীদের সহায়তায় জরুরি তহবিল গঠন এবং প্রত্যাবাসন তথ্য জানাতে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালু করা।

Logo