ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা, আয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য জরুরি তহবিল গঠনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি: বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ওপর প্রভাব ও করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মানবিক সংকট দ্রুত বাড়ছে। যুদ্ধের কারণে বহু কর্মী কাজ হারাচ্ছেন, অনেকে বেতন পাচ্ছেন না এবং দেশে ফেরার পর নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।
এ সময় ইরান থেকে ফিরে আসা তিন অভিবাসী কর্মী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ আবু কায়সার রনি এবং আব্দুল্লাহ আল কাউসার সওদাগর যুদ্ধকালীন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, বকেয়া মজুরি না পেয়ে এবং কাজ হারিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সরকারের কাছ থেকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান তারা।
গবেষণালব্ধ তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন ড. রাশেদ আলম ভূঁইয়া। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সহায়তায় সুপারিশ তুলে ধরেন ড. মোহাম্মাদ জালালুদ্দিন সিকদার। গবেষণা কাজে সহায়তা করেন সুমাইয়া খান।
রামরুর সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধ বা সংকটে কাজ হারানো কর্মীদের জন্য রাজস্ব বাজেট থেকে বিশেষ নগদ সহায়তা দিতে জরুরি তহবিল গঠন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) সব দেশে ২৪ ঘণ্টার হটলাইনসহ ‘অভিবাসী সংকট মোকাবিলা সেল’ চালু, প্রবাসী কল্যাণ তহবিলের সহায়তা মৃত্যু ছাড়াও যুদ্ধজনিত আহত ও জোরপূর্বক দেশে ফেরা কর্মীদের জন্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ পেতে বিমানের টিকিট দেখানোর বাধ্যবাধকতা শিথিল করা।
সংবাদ সম্মেলনে রামরুর গবেষণা কমিটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
logo-1-1740906910.png)