ইউরোপ অভিবাসনের খবর ১৩ মে ২০২৬
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১৫:৫২
ভূমধ্যসাগরে আবারো ভয়াবহ অভিবাসন সংকট তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে গ্রিসের ক্রিট ও গাভদোস দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে গ্রিক কোস্ট গার্ড এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রনটেক্স। লিবিয়ার তোব্রুক উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা একাধিক নৌকা মাঝসমুদ্রে বিপদে পড়ে ভেসে থাকতে দেখা গেছে। আর কিছু নৌকা নিজে থেকেই ক্রিট ও গাভদোসের উপকূলে পৌঁছে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছে বলে জানা যায়।
গ্রিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনের অভিযানে অর্থাৎ ১১ ও ১২ মে শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অনেকেই মাত্র এক থেকে দুই দিন আগে লিবিয়ার তোব্রুক থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। উদ্ধার হওয়া এসব মানুষ জানিয়েছেন, তারা ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার ইউরো সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেছিলেন।
অনেক নৌকা ছিল অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এবং সমুদ্রযাত্রার জন্য অনুপযুক্ত, যার কারণে যাত্রাপথেই চরম বিপদের মুখে পড়ে তারা।উদ্ধার হওয়া দলে নারী ও শিশুও ছিল, যাদের পরে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল ভবন এবং নৌবাহিনী ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধনের কাজ চলছে।
এদিকে, গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নতুন ঢেউয়ে লিবিয়াকে কেন্দ্র করে একটি বড় মানব পাচার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, যা মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ইউরোপে পাঠাচ্ছে। শুধু এই কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন অভিযানে কয়েকশ মানুষের আগমন নিশ্চিত হয়েছে এবং একাধিক সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পাচার চক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে এই রুট এখন ইউরোপের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন পথগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, লিবিয়ায় এখনো ইউরোপে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে পারে লক্ষাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী, যা ভবিষ্যতে এই সংকট আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে ভূমধ্যসাগর এখন আবারো একটি প্রাণঘাতী অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই জীবন ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ইউরোপের দিকে পাড়ি দিচ্ছে। আর একই সঙ্গে বাড়ছে উদ্ধার অভিযান ও মানবিক সংকটের চাপ।
logo-1-1740906910.png)