Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিপুল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:০৩

বিপুল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ঋণের পরিধি বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরো ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চেয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ তপশিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা এবং রেমিট্যান্স আহরণ সুবিধা চালু করতে চায়। এ জন্য কোর ব্যাংকিং সলিউশন স্থাপন, আন্তঃব্যাংক লেনদেনের অনুমোদন এবং জনবল নিয়োগসহ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যেই ব্যাংকটিকে আরো গতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়েছে। জাপানসহ বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ব্যাংকের এমডি ওয়াহিদা বেগম লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

প্রস্তাবনায় তিন ধাপে সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। স্বল্প মেয়াদে তহবিল সংকট দূর করা, জামানত ছাড়া ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়মে ছাড় দেওয়া, আন্তঃব্যাংক লেনদেন চালুর অনুমোদন এবং দ্রুত জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মধ্য মেয়াদে শাখা ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পূর্ণাঙ্গ তপশিলি ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরুর অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে তপশিলি ব্যাংকে রূপান্তরের মাধ্যমে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স তহবিল রয়েছে। এখান থেকে ১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার আগে ২ থেকে ৫ বছর মেয়াদি অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। ১১ শতাংশ সুদে এ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। দক্ষতা অর্জনের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জাপানে কর্মী পাঠানোর জন্য ভাষা শিক্ষা ও অন্যান্য দক্ষতায় সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে। এজন্য নতুন করে আরো ২ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সরাসরি প্রাক-অর্থায়ন করলে তা অর্থনীতিতে টাকা ছাপানোর মতো প্রভাব ফেলে, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় সম্ভব নয়। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সঙ্গেও এ ধরনের অর্থায়ন অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই সরাসরি তহবিল সহায়তা দেওয়া হবে না। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গ্যারান্টি ইস্যু হলে তহবিল ছাড় করা হতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রবাসীদের বৈধ পথে আয় দেশে আনা এবং বিদেশে যেতে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এখনো ব্যাংকটি সরাসরি ঋণের কিস্তি আদায় করতে পারে না। কোর ব্যাংকিং সলিউশন না থাকায় অন্য ব্যাংকের সহায়তায় কার্যক্রম চালাতে হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ঋণ ৩ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৪১৮ কোটি টাকা খেলাপি।

২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংক ২০১৮ সালে তপশিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। এবার নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Logo