Logo
×

Follow Us

এশিয়া

মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগের সম্ভাবনা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:০০

মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগের সম্ভাবনা

মালয়েশিয়া সম্প্রতি বিদেশি কর্মীদের জন্য বিনা খরচে নিয়োগের নীতি ঘোষণা করেছে। এ উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের কারণে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। দ্য ডেইলি স্টার এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।

গত ৮ এপ্রিল ঢাকায় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী শ্রী রামানান রামাকৃষ্ণনের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়োগের সব খরচ বহন করবে নিয়োগকর্তা। এতে কর্মীদের কোনো খরচ থাকবে না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) Employer Pays Principle অনুযায়ী এটি একটি বড় অগ্রগতি।

তবে শ্রম অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীত অভিজ্ঞতা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন, যদিও সরকার নির্ধারিত খরচ ছিল মাত্র ৭৯ হাজার টাকা। এ সময়ে মালয়েশিয়া ১০১টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছিল। প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নিয়োগের পর ২০২৪ সালের মে মাসে কর্মসূচি স্থগিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, আইএলও নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগকর্তা খরচ বহন করবে, এটি বহুদিনের দাবি। কিন্তু বাস্তবে তা কখনো কার্যকর হয়নি। একাধিক স্তরের দালাল ও মধ্যস্থতাকারী খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২২-২৪ সালে মালয়েশিয়া আইটিভিত্তিক FWCMS সিস্টেম চালু করলেও উচ্চ খরচ ও কর্মী শোষণ বন্ধ হয়নি।

অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালু হওয়ার পর থেকে বারবার অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হয়েছে। ১৯৯৭ সালে প্রথম বন্ধ হওয়ার পর গত তিন দশকে পাঁচবার বাজার খোলা ও বন্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মালয়েশিয়ার সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গবেষক মোহাম্মদ হারুন-আল রশিদ বলেন, মালয়েশিয়া ২০১৬-১৮ সালে ১০টি এবং ২০২২-২৪ সালে ১০১টি এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু যোগ্যতার মানদণ্ড কখনো স্পষ্ট করা হয়নি। নতুন শর্তে এজেন্সিগুলোকে বড় অফিস, বিদেশি নিয়োগকর্তার রেফারেন্স এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাখতে বলা হয়েছে, যা খরচ আরো বাড়াবে।

এদিকে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম TURAP নিয়ে। এটি তৈরি করেছে বেস্টিনেট কোম্পানি, যার প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। অতীতে তার কোম্পানি তৈরি করেছিল FWCMS, যা উচ্চ খরচ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সত্যিই শূন্য খরচে নিয়োগ কার্যকর করতে হয়, তবে অতীতের অনিয়মে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। অন্যথায় এই উদ্যোগও আগের মতো ব্যর্থ হবে।

Logo