যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো আশ্রয়প্রার্থী নিয়ে জটিলতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২৩:৪১
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথভাবে চালু করা বিতর্কিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নীতির আওতায় ফেরত পাঠানো এক আশ্রয়প্রার্থীকে সিরিয়ায় ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, এটি এ ধরনের প্রথম ঘটনা।
দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ২৬ বছর বয়সী এক কুর্দি সিরীয় যুবক গত বছর ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন। পরে তাকে নীতির আওতায় ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ফরাসি কর্তৃপক্ষ তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সিরিয়া তার জন্য নিরাপদ।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বশেষ তালিকায় সিরিয়াকে নিরাপদ দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। আশ্রয় প্রত্যাখ্যানের চিঠিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারী এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি, যা দেখায় তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি দেশে ফেরার ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে।
ফ্রান্সে তার সাক্ষাৎকার চলে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। সেখানে মূলত তাকে তার গ্রামের বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ দিতে বলা হয়। যুবক জানান, তিনি সিরিয়া থেকে পালিয়েছেন কারণ স্থানীয় প্রধান তাকে জানিয়েছিলেন, কুর্দি মিলিশিয়া ওয়াইপিজি তাকে জোরপূর্বক সেনায় ভর্তির তালিকায় রেখেছে। তিনি বলেন, “আমি যুদ্ধ করতে চাইনি, কাউকে হত্যা করতে চাইনি।”
তার পরিবারও পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সীমান্তে পাচারকারীরা তাকে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে অন্য একটি লরিতে তুলে দেয়। এরপর থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
যুবক বলেন, “সবকিছু নিয়ে আমি এতটাই মানসিক চাপে আছি যে আমার চুল পড়তে শুরু করেছে। আমি মাত্র ২৬, কিন্তু এখনই টাক পড়ছে। আমি জানি না কী করব। ফ্রান্সে নিয়ম মেনে আশ্রয়ের আবেদন করলাম, কিন্তু তা বাতিল হলো। যদি আবার যুক্তরাজ্যে যাই, আমাকে আটক করা হবে। আর সিরিয়ায় গেলে ওয়াইপিজি আমাকে ধরে নেবে।”
বিতর্কিত নীতির আওতায় ফেরত পাঠানো আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত এ নিয়ে চলমান বিতর্ককে উষ্কে দিয়েছে এই ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিরিয়ার মতো সংঘাতপূর্ণ দেশে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
logo-1-1740906910.png)