Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ব্রিটিশ অভিবাসীদের ইংরেজি পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়া কি ভুল সিদ্ধান্ত?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১২:১৬

ব্রিটিশ অভিবাসীদের ইংরেজি পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়া কি ভুল সিদ্ধান্ত?

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস অভিবাসীদের ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নতুন নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসা রুটে আবেদনকারীদের অনলাইনে পরীক্ষা দিতে হবে। এ জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তি করা হচ্ছে, যার মূল্য প্রায় ৮১৬ মিলিয়ন পাউন্ড।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড স্মিথ এ পরিকল্পনাকে “মৌলিক ভুল” বলে সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনলাইনে পরীক্ষা চালু হলে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়বে এবং সিস্টেমকে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে পরীক্ষাগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরাপদ পরীক্ষাকেন্দ্রে সরাসরি নেওয়া হয়। যোগ্য পরীক্ষকরা তত্ত্বাবধান করেন। লর্ড স্মিথের মতে, এই পদ্ধতি কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য। তিনি দ্য টেলিগ্রাফে লিখেছেন, “বর্তমান ব্যবস্থা ভালোভাবে কাজ করছে। নতুন পরিকল্পনা সবকিছু ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। সরকারকে আবার ভাবতে হবে।”

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিসেম্বর থেকে সম্পূর্ণ অনলাইন পরীক্ষা চালু হতে পারে। এতে প্রায় ১৫০ দেশের হাজার হাজার অভিবাসীকে পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রতারক ও অপরাধী চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফলাফল বদলে দিতে পারে। কেউ পরীক্ষার্থীর হয়ে উত্তর দিতে পারে, আবার কেউ স্ক্রিন শেয়ার বা ইয়ারপিস ব্যবহার করে প্রতারণা করতে পারে।

লর্ড স্মিথ বলেন, “হোম অফিস এখন একটি মৌলিক ভুল করার পথে রয়েছে।” তিনি সতর্ক করেন, পরীক্ষার নিরাপত্তা দুর্বল হলে অভিবাসন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে, শিক্ষামূলক পরীক্ষার বড় প্রতিষ্ঠান এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিস, যার সদস্য কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বিডিং প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

হোম অফিসের এই পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে। সমালোচকরা বলছেন, অনলাইন পরীক্ষা চালু হলে প্রতারণা ঠেকানো কঠিন হবে। তবে সরকার মনে করছে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রক্রিয়াটি আরো সহজ ও দ্রুত করা সম্ভব।

Logo