ভুয়া আইস এজেন্ট সেজে আড়াই লাখ ডলারের গ্রিন কার্ড প্রতারণা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১২:১৫
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে এক ব্যক্তি অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার নামে ভয়ংকর প্রতারণা করেছেন। নিজেকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্ট পরিচয় দিয়ে তিনি বহু অভিবাসীর কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন।
৫৫ বছর বয়সী ডেভিড জর্জ ব্র্যান্ড জিমেনেজ সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলসে আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ফেডারেল কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দেওয়ার ১০টি অভিযোগ, মেইল জালিয়াতির দুটি অভিযোগ, ওয়্যার ফ্রডের দুটি অভিযোগ এবং সরকারি সিলমোহর জালিয়াতি ও পরিচয় চুরির অভিযোগ।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি অভিবাসীদের কাছ থেকে প্রতিজনের কাছে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার নিতেন। বিনিময়ে কাজের অনুমতি, বৈধ বসবাসের কাগজপত্র ও নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাগজপত্র জমা দেননি বা কোনো সুবিধা নিশ্চিত করেননি।
জিমেনেজ ভুয়া আইস ব্যাজ দেখিয়ে নিজেকে বিশেষ এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনো আইস কর্মকর্তা, কখনো হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তা, আবার কখনো “জি-১৮” নামের ভুয়া পদবি ব্যবহার করতেন। তিনি অভিবাসীদের হাতে ভুয়া কাগজপত্র তুলে দিতেন, যেখানে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রতীক ব্যবহার করা হতো। এমনকি এক ভুক্তভোগীকে তিনি ভুয়া “ডিপোর্টেশন স্থগিতাদেশ” দিয়েছিলেন, যাতে মনে হয় ওই ব্যক্তি আর বহিষ্কৃত হবেন না।
২০২৩ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তিনি অন্তত ২৫ জন অভিবাসীকে প্রতারণা করেছেন। বেশির ভাগ ভুক্তভোগী ছিলেন লাতিনো সম্প্রদায়ের অনথিভুক্ত সদস্য।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তিনি এক ভুক্তভোগীকে অন্যের নামে সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, পাসপোর্ট কার্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া আইডি দিয়েছিলেন। এগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার “প্রমাণ” হিসেবে দেখাতে বলেছিলেন।
জিমেনেজের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ জুলাই। তিনি সর্বোচ্চ ১১৭ বছরের কারাদণ্ড, তিন বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তি, চার মিলিয়ন ডলার জরিমানা এবং অন্তত ২৫ জন ভুক্তভোগীকে ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৭৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হতে পারেন।
এদিকে, সম্প্রতি আরেকটি ঘটনায় মেক্সিকান নাগরিক জেমি এরনেস্তো আলভারেজ-গনজালেজও যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট সেজে প্রতারণার দায়ে দোষ স্বীকার করেছেন। তিনি গাড়িতে ভুয়া ব্যাজ, হ্যান্ডকাফ ও অকার্যকর রেডিও অ্যান্টেনা ব্যবহার করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজ ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিলেন।
logo-1-1740906910.png)