Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

টাকা দিয়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, যুক্তরাজ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৫

টাকা দিয়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, যুক্তরাজ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্য সরকার ফ্রান্সকে আরো ৬৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ফরাসি উপকূল থেকে ছোট নৌকায় অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ইংল্যান্ডে প্রবেশ ঠেকানো যায়। বসন্তের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় আবারো ইংলিশ চ্যানেল হয়ে অভিবাসীদের প্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন চুক্তির আওতায় ফরাসি পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট বাড়ানো হবে, নজরদারির জন্য ড্রোন ও বিমান ব্যবহার করা হবে এবং সমন্বয় কেন্দ্রগুলোতে বিনিয়োগ করা হবে। আরব নিউজে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে ব্রিটিশ-লেবানিজ সাংবাদিক এমন মত দেন।

তিনি বলছেন, শুধু অর্থ ব্যয় করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অভিবাসন এখন একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, যেখানে পাচারকারী চক্র, অসাধু আইনজীবী এবং কিছু রাষ্ট্রও রাজনৈতিক স্বার্থে শরণার্থীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে যুক্তরাজ্যের অর্থ ব্যয় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নয়।

ফ্রান্সে নিয়ন্ত্রণ কঠোর হলে পাচারকারীরা বেলজিয়াম বা নেদারল্যান্ডসের উপকূলে অভিবাসীদের সরিয়ে নিচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সমস্যাটি বিড়াল-ইঁদুর খেলায় পরিণত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা বাড়ায় রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের প্রয়োজন। ইংরেজি ভাষা, পুরনো ঔপনিবেশিক সম্পর্ক, পরিবার পুনর্মিলন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ; এসব কারণে দেশটি অভিবাসীদের কাছে আকর্ষণীয়। ব্রেক্সিটের পর দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি আরো বাড়ায় অভিবাসীদের চাহিদা কমেনি।

অন্যদিকে, পাচারকারী ও ভুয়া এজেন্সিগুলো নানা কৌশলে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করাচ্ছে। কেউ ভুয়া চাকরির চুক্তি দেখাচ্ছে, কেউ ধর্মীয় বৈষম্যের দাবি করছে, আবার কেউ সমকামী পরিচয় দিয়ে আশ্রয় চাইছে। সম্প্রতি বিবিসির এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু আইনজীবী নতুন অভিবাসীদের মিথ্যা পরিচয় দিতে সহায়তা করছে।

সরকার অভিবাসীদের জন্য দেশকে কম আকর্ষণীয় করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। হোটেলের বদলে পুরনো সেনা ব্যারাকে তাদের রাখা হচ্ছে, স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর করা হয়েছে এবং দ্রুত বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফ্রান্সকে অর্থ দেওয়া বা সীমান্তে পুলিশ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। পাচারকারীরা নতুন পথ খুঁজে নেবে। তাই কর্মসংস্থান বাজার সংস্কার, ভিসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করাই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে।

Logo