বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। অনেক সময় রিক্রুটিং এজেন্সি বা তাদের এজেন্টরা ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রবাসী কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। এই ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক সরকারি সংস্থা ও আইনি ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে পারেন।
প্রথমেই অভিযোগ জানাতে হবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (BMET)। এটি বিদেশে কর্মী প্রেরণের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ভুক্তভোগীরা ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিতে পারেন। অভিযোগের সঙ্গে টাকা দেওয়ার রশিদ, চুক্তিপত্র, পাসপোর্ট ও ভিসার কপি সংযুক্ত করতে হয়। অনলাইনেও বিএমইটির ওয়েবসাইটে অভিযোগ দাখিল করা যায়।
এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানো সম্ভব। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ সেল বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়; যেমন লাইসেন্স বাতিল বা জরিমানা।
এছাড়া ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপ বা প্রবাস বন্ধু কল সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ জানানো যায়। দেশের ভেতর থেকে টোল ফ্রি নম্বর ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০৬১৩৫ নম্বরে ফোন করে পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়া যায়।
যদি বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়, তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ অনুযায়ী বিশেষ আদালতে মামলা করা সম্ভব। এছাড়া দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় থানায় প্রতারণার মামলা করা যায়। এসব ক্ষেত্রে বিএমইটির তদন্ত রিপোর্ট আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রিক্রুটিং এজেন্সি সংগঠন বায়রার (BAIRA) সালিশি কমিটিতেও অভিযোগ জানানো যায়। অনেক সময় তাদের মধ্যস্থতায় টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সব লেনদেনের কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং আসল কপি কাউকে দেওয়া যাবে না। দালাল বা অননুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে লেনদেন না করাই নিরাপদ। প্রয়োজনে অভিবাসন আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সরকারি সংস্থাগুলোর এসব পদক্ষেপ প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে এবং প্রতারণা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা করতে।
logo-1-1740906910.png)