সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া আজ মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের শ্রমবাজার, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য আধুনিক সেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকে মন্ত্রী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ৭৩টি পেশায় দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে সৌদি মানদণ্ডে আধুনিকায়ন এবং যৌথ তদারকিতে পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী প্রস্তাব করেন, যাচাইকৃত কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ বা ‘কোয়ালিফায়েড ট্যালেন্ট ব্যাংক’ তৈরি করা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ লেনদেন বা কর্মী হয়রানির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি সৌদিতে দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি হোয়াইট কলার চাকরির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ আকামা ফি কমানোর জন্য সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান। তিনি প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহায়তা কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আলোচ্য অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আকামা ফি নিয়োগকর্তার বহন করা উচিত বলে মত দেন এবং সৌদিতে নিবন্ধিত ৯৯০টি এজেন্সির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির প্রস্তাবও দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে ২৫০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৌদি সরকারের স্কলারশিপ পাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি সিলেট বিমানবন্দর থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দেন।
বৈঠকের শেষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রাষ্ট্রদূতকে সিলেট ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান এবং ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
logo-1-1740906910.png)