সেন্টমার্টিন দ্বীপের অস্তিত্ব ও অনন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তই কার্যকর থাকবে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটেছে।
মন্ত্রী ডয়েচে ভেলেকে বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘ সাত বছরের আলোচনার পর সরকার ২০২৪ সালে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারবেন। আর ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৯ মাস দ্বীপে পর্যটন বন্ধ থাকবে, যাতে প্রকৃতি নিজে থেকেই পুনরুদ্ধার করতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তিন মাসের বেশি সময় পর্যটন চালু থাকলে দ্বীপের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। তাই এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখা অপরিহার্য।
তবে দ্বীপের বাসিন্দাদের প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন হওয়ায় অনেকেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সীমিত ভ্রমণ অনুমতির কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। শত শত পরিবার চরম জীবন-জীবিকার সংকটে পড়েছে।
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা না হলে সেন্টমার্টিন দ্বীপ টিকবে না। অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটন সীমিত করায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে দ্বীপে এখন পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
logo-1-1740906910.png)