Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মালদ্বীপে বাংলাদেশি হত্যার দায়ে স্থানীয় ব্যক্তির সাজা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫

মালদ্বীপে বাংলাদেশি হত্যার দায়ে স্থানীয় ব্যক্তির সাজা

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ লিটনকে হত্যার দায়ে স্থানীয় নাগরিক মোহাম্মদ নিজামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির ফৌজদারি আদালত। ২২ এপ্রিল ঘোষিত এই রায় মালদ্বীপের গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

রায়ে বিচারক বলেন, ইসলামী আইন অনুযায়ী নিজাম ইচ্ছাকৃত হত্যার জন্য দোষী নন, তবে দণ্ডবিধি অনুযায়ী তিনি মানব জীবনের প্রতি চরম অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর জন্য দায়ী। ফলে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ভোগ করা সময় বাদ দিয়ে তাকে আরো ২১ বছর ১০ মাস কারাভোগ করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লিটন সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার পর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা ছিল না। নিজামের সঙ্গে তার শত্রুতা প্রমাণিত হয়েছে এবং তদন্তকালে নিজাম স্বীকার করেছেন যে তিনি লিটনকে সমুদ্রে ফেলে দেন।

লিটন মালদ্বীপে ফুয়েল বার্জে কাজ করতেন। একই নৌকায় ক্যাপ্টেন ছিলেন স্থানীয় নাগরিক নিজাম। একই মামলায় নিজাম চুরি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভিলিমালে আইল্যান্ড থেকে ফুয়েল বার্জ রওনা হওয়ার পর লিটনসহ দুইজন নিখোঁজ হন। পরদিন বার্জটি মালদ্বীপ এয়ারপোর্টের কাছে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি। পরে বা-ভেনফারু আইল্যান্ডের কাছে একটি অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়, যা স্থানীয়রা লিটনের মরদেহ বলে ধারণা করেন।

২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি মালে সিটিতে নিজামকে দেখা যায় এবং তার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ তাকে একটি গেস্টহাউস থেকে আটক করে এবং লিটন হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার দেখায়। মামলাটি নিখোঁজ থেকে হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, লিটন ফুয়েল কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং বিপুল অর্থ বহন করতেন। ধারণা করা হয়, অর্থ চুরির উদ্দেশ্যে নিজাম তাকে হত্যা করেছে। নিজাম পূর্বেও চুরি ও মাদকের অপরাধে জড়িত ছিলেন।

প্রবাসী লিটনের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার আমানপুর গ্রামে। তিনি মরহুম আফজাল হোসেনের একমাত্র ছেলে।

Logo