ইরান-মার্কিন আলোচনা শুরু হলেও আবারো যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১৭
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করলেও আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল শঙ্কা, এই যুদ্ধবিরতি টিকবে না। আবারো লেগে যেতে পারে প্রবল সংঘাত। কিন্তু কেন আবারো যুদ্ধ শুরুর কথা বলা হচ্ছে?
৪০ দিনের যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনতে ইরান-মার্কিন আলোচনা শুরু হয়েছে পাকিস্তানে। পাকিস্তান, মিসর আর তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-মার্কিন আলোচনা শুরু হয়েছে ১১ এপ্রিল। ৮ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিতে ইরান-আমেরিকা রাজি হলেও দুই পক্ষ থেকে হুমকি-ধামকি চলছেই।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো ক্রমাগত হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে আর যুদ্ধবিরতির শর্ত না মানলে ইরানে আবারো হামলা হবে। শান্তির আলোচনার মধ্যেই মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল খবর দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা। পাঠানো হচ্ছে আরো দুটি রণতরী। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ৪০ হাজার সেনা রাখা আছে, তবে কিছু দিনের মধ্যে তা ছাড়িয়ে যেতে পারে ৫০ হাজারে।
এদিকে, ১১ এপ্রিল এক কন্টিনজেন্ট পাকিস্তানি সেনা পৌঁছেছে সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে। সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাক সেনাদের আগমন বলে জানিয়েছে সৌদি সরকার।
তাই এই প্রশ্নটিও জোরালোভাবে সামনে আসছে, এসব কি সামনের দিনে আরো মারাত্মক যুদ্ধের আভাস দিচ্ছে?
এদিকে থেমে নেই ইরানও। শান্তি আলোচনার আগের দিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়ে দেন, লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় না হলে, তাদেরও আঙ্গুল ট্রিগারে রাখাই আছে।
এদিকে, সিএনএন খবর দিয়েছে, ইরানে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্রের চালান পাঠাতে জোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে চীন। সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানে এই চালান পাঠানোর খবরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনে।
আর শান্তির জন্য সমঝোতার বিষয়ে ইরান যে ১০ দফা কঠিন শর্ত দিয়েছে আমেরিকাকে, তা মেনে নিলে নিশ্চিত পরাজয় মানতে হয় মার্কিনিদের। কিন্তু তা কি মেনে নেবে আমেরিকা?
তাই ইরান-মার্কিন সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায়, আবার কখন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, তা নিয়ে আবারো বিশ্বমহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
logo-1-1740906910.png)