মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনে। দেশে ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন অনেক প্রবাসী। কারো ভিসা বাতিল হচ্ছে, কারো ফেরার ফ্লাইট অনিশ্চিত। বাড়তি বিমান ভাড়া ও কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন অনেকে।
বাংলাদেশে থাকা দুই বাইরাইন প্রবাসী মাইগ্রেশন কনসার্নের কাছে তাদের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তারা হলেন- চট্টগ্রামের আনোয়ারার আবদু্ল্লাহ আল মামুন ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আমজাদ হোসেন। দুজনই কাজ করতেন বাহরাইনের জুফেইরের একটি হোটেলে।
রোজার ঈদে ছুটিতে এসেছিলেন দেশে স্বজনের সাথে ঈদ করতে। যুদ্ধের কারণে আটকা পড়েন। আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দেশে থাকার সময়ে নিয়মিত কর্মস্থলে সহকর্মীদের সাথে তার কথা হচ্ছিল।
প্রতিদিন সকালে উঠে তারা তাদের ভিসা স্ট্যাটাস দেখতেন। কিন্তু গত ৪ এপ্রিল ভিসা চেক করতে গিয়ে দেখেন, তাদের ভিসা আর অনলাইনে দেখা যাচ্ছে না। পরে জানতে পারেন বাহরাইনে কোম্পানি তাদের ভিসা বাতিল করে দিয়েছে।
ভিসা বাতিল হওয়ার খবরে মামুন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।কী কারণে ভিসা বাতিল, তা জানেন না। দেশটিতে আর ফিরতে পারবেন কিনা, তাও অজানা।
একই রকম ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আমজাদ হোসেনের বেলাতেও। ঈদের ছুটিতে এসেছিলেন দুই বছরের শিশুপুত্রকে দেখতে। এখন ভিসা বাতিল হওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। এমনিতেই বাহরাইন বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে। এখন পরে ভিসা পাবেন কিনা, পেলে কবে? এসব প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারছেন না।
আমজাদ ও মামুনের মতো আরো প্রবাসী এভাবে ভিসা বাতিল, চড়া দামে বিমান ভাড়ায় বাহরাইনে ফিরতে না পেরে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। দেশে আটকে পড়ে, ইনকাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তারা দুজনই বাংলাদেশ দূতাবাস বাহরাইনের সহায়তা চেয়েছেন।
বাহরাইন প্রবাসী বাংলাদেশিরা আরো জানিয়েছেন, কোভিডের সময়েও এমন করে প্রবাসীরা দেশে আটকা পড়েছিলেন, যাদের অনেকে ভিসা জটিলতার কারণে বাহরাইনে আর ফিরতেই পারেননি।
logo-1-1740906910.png)