Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রবাসীদের আস্থার কৃষি ব্যাংকের বিশেষ স্কিম চালু

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১৭

প্রবাসীদের আস্থার কৃষি ব্যাংকের বিশেষ স্কিম চালু

রেমিট্যান্স পাঠানোয় প্রবাসীদের আস্থা সবচেয়ে বেশি কৃষি ব্যাংকের ওপর। গত মার্চ মাসে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। এবার এই ব্যাংকটি চালু করেছে একটি বিশেষ সঞ্চয়ী স্কিম- ‘অপরাজিত স্কিম’। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সঞ্চয়ের মানসিকতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে ব্যাংকটি।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ অনুসারে, ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কোনো শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিক এই স্কিমে যুক্ত হতে পারেন। কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকরা এককভাবে, যৌথভাবে কিংবা অভিভাবকের মাধ্যমে এই সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে পারবেন। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা রাখা যাবে।

২০২৪ সালের মার্চে চালু হওয়া এই স্কিমে গত দুই বছরে ৭১৬ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যুক্ত হয়েছেন। তাদের মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার একটি বড় পদক্ষেপ।

মুনাফার হারও আকর্ষণীয়। তিন বছর মেয়াদে জমা রাখলে গ্রাহক পাবেন ১০.২৫ শতাংশ হারে মুনাফা। পাঁচ বছর মেয়াদে সাড়ে ১০ শতাংশ এবং ছয় বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপক মো. আবদুস সামাদ বলেন, দেশে প্রায় ৪৬ লাখ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ আছেন। তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এবং আর্থিক নিরাপত্তা দিতে এই স্কিম চালু করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে উৎসাহিত করবে।

প্রবাসীদের জন্যও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীদের পরিবারের কোনো স্বজন যদি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হয়, তবে তারাও এই স্কিমের সুবিধা নিতে পারবেন। এতে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ শুধু পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়েই নয়, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও নিরাপত্তায়ও কাজে লাগবে। 

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য আলাদা সঞ্চয়ী স্কিম চালু হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে আরো নিরাপদ হবেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে যুক্ত হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

Logo