Logo
×

Follow Us

অন্যান্য

যুদ্ধে উপসাগরীয় অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকিতে, শঙ্কায় প্রবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০১

যুদ্ধে উপসাগরীয় অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকিতে, শঙ্কায় প্রবাসীরা

ছবি - এআই দিয়ে বানানো

ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর অর্থনীতি ঘিরে শুরু হয়েছে দ্বিধা আর শঙ্কা। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সদস্য দেশগুলো মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিকস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন, সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং বাণিজ্য কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান ও বাহরাইনের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানি রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা এসব দেশের আয়ের প্রধান উৎস। 

এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পর্যটন, পরিবহন, নির্মাণ ও সেবা খাতেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ কমে আসা, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে অনেক দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গিয়ে নেতিবাচক অবস্থায় যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরকারি ব্যয় সংকোচন, উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত এবং বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

রিসেশন বা অর্থনৈতিক মন্দা বলতে বোঝায় একটি দেশের অর্থনীতিতে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন, আয়, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যাওয়া। এর ফলে কোম্পানিগুলো লোকসানের মুখে পড়ে, নতুন কর্মসংস্থান কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাই করা হয়। মানুষের আয় কমে যায়, বাজারে চাহিদা কমে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। আর ইতোমধ্যেই তার প্রমাণ মিলেছে দুবাইয়ের শ্রমবাজারে। 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এমন অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ এসব দেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী নির্মাণ, পরিষেবা, পরিবহন ও স্বল্প দক্ষতার কাজে নিয়োজিত। যেগুলো অর্থনৈতিক চাপে পড়লে প্রথমেই সংকুচিত হয়ে যাবে। ফলে অনেক শ্রমিক চাকরি হারাতে পারেন বা তাদের বেতন কমে যেতে পারে। সেই সাথে নতুন ভিসা বা নিয়োগে খরা দেখা দিতে পারে, যাতে ঝুঁকি বাড়বে দেশে ফেরত আসার। চলমান পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মন্দা শুধু প্রবাসীদের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Logo